সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে নয়, সঠিক চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবসে বিএমইউ উপাচার্য

সোরিয়াসিস কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, সোরিয়াসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করা যাবে না, যাতে তারা নিজেদের বিচ্ছিন্ন বা অবহেলিত মনে করেন। এ রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বিএমইউতে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক শোভাযাত্রার উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ত্বকের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষটিকে দেখুন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালন করে সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটি। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, সোরিয়াসিস ত্বকে দৃশ্যমান হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় অন্যদের কাছ থেকে দূরত্বের শিকার হন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোগটি সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। সোরিয়াসিস যে ছোঁয়াচে নয়, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।
তিনি বলেন, সোরিয়াসিসের সঙ্গে আর্থ্রাইটিসেরও সম্পর্ক রয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশের আর্থ্রাইটিস হতে পারে। শুরুতেই আর্থ্রাইটিস শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া গেলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অন্যথায় এ রোগ গুরুতর হয়ে হাড়ের জোড়, মেরুদণ্ড ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ক্ষতি করতে পারে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক চলাফেরাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
উপাচার্য আরও বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সোরিয়াসিসের চিকিৎসায় আধুনিক পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে। এসব চিকিৎসা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা গেলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করা সম্ভব। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশীদ এবং বিএমইউর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী।




