মন্ট্রিয়লে কানাডা-ইইউ সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা কুইবেকের প্রিমিয়ারের, অটোয়ার বিরুদ্ধে পাশ কাটানোর অভিযোগ
কানাডার কুইবেক প্রদেশের প্রিমিয়ার পল সাঁ-পিয়ের প্লামোঁদো মন্ট্রিয়লে বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন-কানাডা সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে তিনি সতর্ক করেছেন, কুইবেকের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন চুক্তি ‘সহজভাবে বাস্তবায়িত হবে না’।
বুধবার গভীর রাতে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে লেখা একটি খোলা চিঠি এক্সে প্রকাশ করে তিনি তাঁর অনুপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেন। সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় অটোয়ার সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দুই দিনের প্রকাশ্য বিরোধের পর এই ঘোষণা এল।
ফরাসি ভাষায় লেখা চিঠিতে প্লামোঁদো বলেন, অটোয়া এই আলোচনা থেকে কুইবেককে ‘পাশ কাটিয়ে রাখার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে তাঁর সরকারের জন্য ‘আলোচনার টেবিলে কোনো আসন নেই, কথা বলার সুযোগও নেই’, অথচ সম্মেলনটি হচ্ছে কুইবেকের মাটিতেই।
তিনি লেখেন, এই গতিপ্রকৃতি সম্মেলনে আলোচিত চুক্তিগুলোর প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কানাডার ফেডারেল ব্যবস্থায় প্রদেশগুলো নিজেদের ক্ষমতার আওতায় থাকা আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়ন করে—এই যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, কুইবেকের সম্মতি ছাড়া এর স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি বাস্তবায়িত হবে না।
প্লামোঁদো অটোয়ার বিরুদ্ধে আলোচনার ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ আটকে রাখার অভিযোগও করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আরও উপযুক্ত প্রেক্ষাপটে, অদূর ভবিষ্যতে’ ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে তিনি প্রস্তাব দিচ্ছেন।
তাঁর জায়গায় সম্মেলনে কুইবেকের প্রধান কূটনীতিক পাসকাল পারাদি অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বুধবার বলেন, তাঁর দপ্তর প্রিমিয়ারকে মন্ট্রিয়লে কমিশন সভাপতিকে স্বাগত জানানোর সম্মান এবং প্রধান টেবিলে আসনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কার্নি বলেন, ‘আমি আশা করি তিনি পুনর্বিবেচনা করবেন।’ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, প্লামোঁদো আবারও ‘খালি চেয়ার রেখে দেওয়ার’ পথ বেছে নিয়েছেন।
এই বিরোধ সম্মেলন ঘিরে ইতিবাচক আবহকে ম্লান করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা সম্মেলনটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নেতারা সেখানে যৌথ সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কাঠামো হিসেবে ‘অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার’ চালু করবেন।
প্লামোঁদোর চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্মেলনের অনেক বিষয় কুইবেকের দায়িত্বের আওতায় পড়ে—এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রাকৃতিক সম্পদ।
প্রিমিয়ার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে নিজস্ব যোগাযোগও চালিয়েছেন। সোমবার তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং জানান, দুজনে আগামী সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্সে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে একমত হয়েছেন।
কর্মকর্তা পর্যায়ে সম্পর্ক এখন পর্যন্ত ধরে আছে এবং কর্মকর্তারা সম্পর্ককে গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন। ব্রাসেলসে কুইবেকের প্রতিনিধি হেলেন ড্রেইনভিল গত সপ্তাহে পলিটিকোকে বলেন, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ও কমিশনের সঙ্গে কুইবেক আলোচনা চালাচ্ছে এবং ‘সব সংকেতই সবুজ’।
শুক্রবার কার্নি, কস্তা ও ভন ডার লেয়েনের যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।


