ওষুধের দাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ: বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রীর ‘বাণিজ্য বাজুকা’ প্রস্তুতির আহ্বান
ওষুধের দাম বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘বাণিজ্য বাজুকা’ হিসেবে পরিচিত অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট (এসিআই) ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ভানডেনব্রুকে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বেও থাকা ভানডেনব্রুকে বৃহস্পতিবার এগমন্ট ইনস্টিটিউট থিংক ট্যাংকে প্রকাশিত একটি অবস্থানপত্রে এই আহ্বান জানান। অবস্থানপত্রটির সহ-লেখক তাঁর মন্ত্রিসভার উপপ্রধান গ্লোরিয়া ঘেকিয়ের।
তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউরোপীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায়, তাহলে ২০২৫ সালের আগস্টে টার্নবেরি বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটনকে দেওয়া শুল্ক ছাড় স্থগিত করার জন্যও ইইউর প্রস্তুত থাকা উচিত।
ট্রাম্প প্রশাসন তার ‘মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন’ (এমএফএন) নীতির আওতায় ইউরোপীয় সরকারগুলোকে ওষুধের জন্য বেশি দাম দিতে চাপ দিচ্ছে, যাতে মার্কিন ওষুধের দাম অন্য ধনী দেশগুলোর দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
ওয়াশিংটনের যুক্তি, ওষুধ গবেষণা ও উন্নয়নের খরচ অন্যায্যভাবে আমেরিকানরাই বহন করছে, আর ইউরোপীয়রা তার সুবিধা ভোগ করছে।
এমএফএন নীতি মার্কিন ওষুধের দামকে ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিসহ ধনী দেশগুলোর একটি গ্রুপে নির্ধারিত সর্বনিম্ন দামের সঙ্গে বেঁধে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ২৬টি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে এমএফএন মূল্য চুক্তি করেছে, যারা মার্কিন মেডিকেইড কর্মসূচিতে সরবরাহ করা ওষুধের দাম সেই মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারণে রাজি হয়েছে।
জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র উদ্ভাবনী ওষুধের জন্য জার্মানির কথিত ‘ক্রমাগত কম মূল্য পরিশোধ’ নিয়ে সেকশন ৩০১ তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তের ফলে টার্নবেরি চুক্তিতে সম্মত ১৫ শতাংশ সীমার বেশি অতিরিক্ত শুল্ক বসতে পারে।
মার্কিন চাপ মোকাবিলায় ইউরোপীয় রাজধানীগুলো একজোট হচ্ছে। গত সপ্তাহে ডাবলিনে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ডেনমার্ক, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের মন্ত্রীরা প্রতিক্রিয়া সমন্বয়ের জন্য ইইউ-ব্যাপী একটি ফার্মাসিউটিক্যাল টাস্ক ফোর্স গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ফ্রান্সের বাণিজ্যমন্ত্রী নিকোলা ফরিসিয়ে পলিটিকোকে বলেছেন, ‘আমরা যদি একসঙ্গে কাজ না করি এবং দল হিসেবে কাজ না করি, তাহলে দেশগুলো অনিবার্যভাবে একা পথ চলতে প্রলুব্ধ হবে।’
অবস্থানপত্রে ভানডেনব্রুকে ও তাঁর সহলেখক যুক্তি দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ওষুধমূল্য নীতির জবাবে ব্রাসেলসের একটি এসিআই তদন্ত শুরু করা উচিত। এই উপকরণটি সদস্য দেশগুলোর যোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন থাকলে বাণিজ্যের ওপর বিদেশি হুমকির জবাবে ইইউকে শুল্ক আরোপ ও সেবায় বিধিনিষেধের ক্ষমতা দেয়।
অবস্থানপত্রে বলা হয়েছে, ‘পদ্ধতিটি বেশ ভারী, কিন্তু শুধু একটি পরীক্ষা শুরু করলেই তার নিজস্ব প্রভাব পড়বে।’
লেখকদ্বয় ফাইজারের এমএফএন চুক্তির একটি ধারার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বেশি দাম থেকে পাওয়া অতিরিক্ত রাজস্বের ভাগ মার্কিন সরকারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁরা লিখেছেন, ‘বিদেশিদের বেশি অর্থ পরিশোধ এভাবেই খোদ মার্কিন সরকারের রাজস্বের উৎস হয়ে ওঠে।’
প্রশিক্ষণে অর্থনীতিবিদ ভানডেনব্রুকের মতে, এই নীতির নিট ফল হতে পারে ইউরোপে ওষুধের দামে চরম বৃদ্ধি — অথবা বাজার থেকে ওষুধ প্রত্যাহার — যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে দাম কমবে তুলনামূলক সামান্য।
অবস্থানপত্রে উদ্ধৃত একটি পূর্বাভাস অনুযায়ী, মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত দেশগুলোতে দাম তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যেখানে মার্কিন দাম কমবে মাত্র ৭ দশমিক ৫ থেকে ১৫ শতাংশ।
লেখকদ্বয় সতর্ক করে লিখেছেন, ‘এর পরিণতি ওষুধের বাজেটের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে, সার্বজনীন বিমা যে সংহতি সুরক্ষিত করার জন্য তৈরি, তার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।’


