মন্ট্রিয়লে কানাডা-ইইউ সম্মেলন: ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা, ‘সহযোগী সদস্য’ শব্দ নিয়ে মতভেদ

মন্ট্রিয়লে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনের কানাডা-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কানাডা ও ইউরোপীয় ব্লক কীভাবে সম্পর্ক আরও গভীর করবে, তার বিস্তারিত জানতে এই বৈঠকের দিকে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখা হবে।
গত মাসে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েন কানাডার জন্য ‘সহযোগী সদস্যপদ’ নামে একটি ধারণার দরজা খোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বর্তমানে এমন কোনো মর্যাদার অস্তিত্ব নেই।
এই প্রস্তাব আসে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার পর। সেখানে তিনি ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক ভাঙনের’ মুখে কানাডা ও ইউরোপ ‘একসঙ্গে আরও শক্তিশালী’।
কার্নি ও অনেক ইইউ সদস্যরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে স্বাগত জানালেও এই নতুন সম্পর্ককে কী নামে ডাকা হবে, তা নিয়ে সবাই একমত নন। জার্মানি ‘সহযোগী সদস্য’ শব্দটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে; তাদের আশঙ্কা, অন্য যেসব দেশ যোগ দিতে চায় তাদের তুলনায় কানাডা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাচ্ছে।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানি ও অন্যান্য দেশ সফলভাবে তদবির করে সম্মেলনের আগে খসড়া বিবৃতি থেকে এই উপাধির উল্লেখ সরিয়ে দিয়েছে। তার বদলে সেখানে ‘ক্রমশ ঘনিষ্ঠতর সংযোগ’-এর মতো নরম ভাষা বেছে নেওয়া হয়েছে।
কানাডায় জার্মানির রাষ্ট্রদূত মাথিয়াস লুটেনবের্গ মঙ্গলবার সিটিভি নিউজকে বলেন, কিছু সদস্যরাষ্ট্র ভন ডার লেয়েনের ঘোষণায় ‘কিছুটা বিস্মিত’ হয়েছিল। তিনি বলেন, কানাডার ক্ষেত্রে ‘সহযোগী সদস্যপদ’ ধারণাটি স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। জার্মানি এই শব্দটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছুর জন্য ব্যবহার করে—ইউক্রেন ও সম্ভাব্য মলদোভার সঙ্গে ইইউর সম্পর্কের ক্ষেত্রে।
লুটেনবের্গ আরও বলেন, কানাডা কিংবা ইইউ কেউই উত্তর আমেরিকার এই দেশটির পূর্ণ সদস্যপদ চাইছে না। বরং দুই পক্ষই চায় সদস্যপদ ছাড়াই কানাডাকে ব্লকের ‘যতটা সম্ভব কাছাকাছি’ নিয়ে আসতে।
সম্মেলনের প্রথম দিনে কার্নি, ভন ডার লেয়েন এবং ইউরোপ ও কানাডার ব্যবসায়ী নেতারা একটি ব্যবসায়িক ফোরামে একত্রিত হবেন। কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দিনে প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, গবেষণা ও বাণিজ্য নিয়ে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
এই সপ্তাহের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইউরোপীয় কর্মকর্তারা কানাডার নতুন সম্পর্ক নিয়ে বড় কোনো ঘোষণার সম্ভাবনা কমিয়ে দেখেছেন এবং বলেছেন, অনেক কিছুই আগামী মাসগুলোতে চূড়ান্ত হবে।
তবে কানাডা ও ইইউ উভয় পক্ষের কর্মকর্তারাই সম্পর্কটি কেমন হতে পারে তার কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন—এর মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠতর ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং আটলান্টিকের দুই পাশে আরও বেশি শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সুযোগ।
কানাডা অন্যান্য ইইউ দেশের মতো সদস্যপদ ফি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না, কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তার বদলে দেশটি বিভিন্ন ইইউ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার দিকে নজর দিচ্ছে, যা কানাডা ও সদস্যরাষ্ট্র উভয়েরই উপকারে আসবে।
গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্নি কানাডাকে ইউরোপের আরও কাছে টেনেছেন। এ সময় দেশটি তার প্রতিবেশী ও বৃহত্তম বাণিজ্যিক গ্রাহক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ মোকাবিলা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার ইইউর সহযোগী সদস্য হওয়ার ধারণাকে ‘হাস্যকর’ বলেছেন এবং হুমকি দিয়েছেন, এটিকে তিনি ‘শত্রুতামূলক কাজ’ মনে করলে ইউরোপের ওপর ‘অত্যন্ত গুরুতর শুল্ক’ আরোপ করবেন।
কানাডার কর্মকর্তারা বুধবার জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপের দিকে তাদের এই ঝোঁক কাউকে অসন্তুষ্ট করার জন্য নয়, বরং আগে থেকে চলমান কাজের ওপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যাওয়া। সম্মেলনের আগে ব্রিফিংয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কানাডার কর্মকর্তা বলেন, ‘এই শব্দচয়ন উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতীক।’




