ওসমানী হাসপাতালে দুই সাংবাদিককে মারধরের পর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, চিকিৎসা ব্যাহত

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। আহত দুজন হলেন 'সিলেট ভিউ ২৪'-এর প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার এবং 'শ্যামল সিলেট'-এর আলোকচিত্র সাংবাদিক রেজা রুবেল।
ঘটনার পর দুই আহত সংবাদকর্মীর চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত সাধারণ রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। চিকিৎসা না পেয়ে অনেককে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতেও দেখা গেছে।
জানা যায়, বুধবার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা নিবেন্দু তালুকদার ও রেজা রুবেলের ওপর হামলা করেন। এ সময় স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে তাঁদের মাথায় আঘাত করা হয়।
পরে আহত দুই সাংবাদিকের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে চলে যান।
ঘটনার পর হাসপাতালের পরিচালক বা উপ-পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. বদরুল আলম জানান, তাঁরা ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তাঁরা কথা বলবেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার (২৮ অক্টোবর) গভীর রাতে সিলেট নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাংবাদিকেরা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নোবেল বলেন, দুই সহকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁদের শরীর থেকে রক্ত ঝরেছে এবং আঘাতের স্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে বলে তিনি বলেন।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালের পরিচালক ও উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁরা চান, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক। সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।




