সিলেটে রায়হান হত্যার রায়ে সন্তুষ্ট মা সালমা বেগম, চান এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সিলেটে পুলিশি নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়ার মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য পাঁচ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রায়হানের মা সালমা বেগম। তবে শুধু রায় ঘোষণায় নয়, আকবরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেই তাঁরা প্রকৃত শান্তি পাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সালমা বেগম।
পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সালমা বেগম বলেন, ‘রায়ে আমি সন্তুষ্ট। এখন প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেনকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করলে আমরা শান্তি পাব। রায়হানের আত্মাও শান্তি পাবে।’
তবে মামলার আসামিদের পলাতক থাকার বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। রায় ঘোষণার আগে সালমা বেগম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে একজনের জামিন হয়নি, কিন্তু ২০২৫ সালে এসে মামলার আর্গুমেন্ট শেষ হওয়ার পরও কীভাবে প্রথম তিনজন আসামি জামিন পান, জামিন পেয়ে কীভাবে তাঁরা পালিয়ে যান—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, আজকে তো শুধু কাগজে-কলমে রায় হবে, আসামিরা তো শাস্তি পাচ্ছেন না; আসামিরা শাস্তি না পেলে তাঁর ছয় বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে গেল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ছয় আসামির মধ্যে রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন শুধু পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।
রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, আদালত ছয় আসামির মধ্যে আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। অন্য পাঁচ আসামির মধ্যে কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের এসআই মো. হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে পিপি বলেন, রায়ে তাঁরা প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে রায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




