ঝালকাঠির রাজাপুরে যুবক নুরে আলমকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ, দক্ষিণ কাঠিপাড়া থেকে মরদেহ উদ্ধার

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় নুরে আলম কাগজী (৩১) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ কাঠিপাড়া এলাকার কতবেলতলা থেকে নুরে আলমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নুরে আলম কাগজী সাতুরিয়া ইউনিয়নের নৈকাঠি এলাকার আফসার আলী কাগজীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা রাতের কোনো এক সময় নুরে আলমকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে ফেলে রেখে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নারিকেলবাড়িয়ায় কামরুল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে জাকির তার স্ত্রী ময়নাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। নুরে আলমের সঙ্গে ময়নার সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। ময়নার চাচা পরিচয়ে নুরে আলম ওই বাসায় প্রায়ই রাত যাপন করতেন। এ নিয়ে বুধবার দুপুরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ময়না জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মুখোশ পরা সাত থেকে আটজনের একটি দল চাপাতি দেখিয়ে তাদের ভাড়া বাসা থেকে নুরে আলমকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে কী ঘটেছে তিনি জানেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কে এক যুবককে উলঙ্গ ও আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ওই যুবক নিজেকে সাতুরিয়ার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে জানান, তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি তাকে সেখানে নিয়ে এসে এমন অবস্থায় ফেলে গেছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তবে তার আকুতি শুনে কেউ এগিয়ে আসেনি।
ওই স্থানীয় বাসিন্দা আরও বলেন, যুবকটি তার কাছে পানি চান। তাকে সাহায্য করতে এলাকার লোকজনকে ডাকতে গিয়ে ফিরে এসে দেখেন, যুবকটি সড়কের পাশে নালার পানিতে পড়ে আছেন।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন বিশ্বাস বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




