অগ্রসর স্তন ক্যানসারে নতুন ওষুধে তিন-চতুর্থাংশ রোগীর টিউমার সংকুচিত, আশার পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সতর্কতাও

অগ্রসর স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় একটি লক্ষ্যভেদী (টার্গেটেড) ওষুধের বড় পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল মিলেছে। ট্রাস্টুজুমাব রেজেটেকান নামের ওষুধটি পাওয়া রোগীদের মধ্যে প্রতি চারজনের তিনজনের বেশি রোগীর টিউমার সংকুচিত হয়েছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
ওষুধটি নিয়ে গবেষণা চলছে ERBB2-low মেটাস্ট্যাটিক স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ওপর, যাদের টিউমারে HER2 নামের প্রোটিনের মাত্রা কম থাকে। এই প্রোটিন ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
HORIZON-Breast06 নামের তৃতীয় ধাপের (ফেজ ৩) ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা হয়েছে, এই ওষুধটি প্রচলিত কেমোথেরাপির চেয়ে ভালো কাজ করে কি না।
পরীক্ষায় চীনের ৭৩টি হাসপাতালের ৫৫১ জন নারী রোগী অংশ নেন। তাদের এলোমেলোভাবে দুটি দলে ভাগ করা হয়—একটি দলকে প্রতি তিন সপ্তাহে শিরায় এই ওষুধ দেওয়া হয়, আর অন্য দলকে চিকিৎসকের পছন্দ অনুযায়ী কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। গবেষণার সময়কাল ছিল ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত।
ওষুধটি ক্যানসারের অগ্রগতি কেমোথেরাপির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত করেছে। ওষুধ পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে টিউমার না বাড়া অবস্থায় থাকার মধ্যম সময় ছিল ১৬ দশমিক ৪ মাস, আর কেমোথেরাপির ক্ষেত্রে তা ছিল ৬ দশমিক ৮ মাস।
গবেষণা চলাকালে ওষুধ পাওয়া রোগীদের ক্যানসার বেড়ে যাওয়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কেমোথেরাপি পাওয়া রোগীদের তুলনায় ৭৩ শতাংশ কম ছিল।
টিউমার সংকুচিত হয়েছে ওষুধ পাওয়া ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ রোগীর, যেখানে কেমোথেরাপি পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ৪১ দশমিক ২ শতাংশ।
১২ মাসের মাথায় ওষুধ পাওয়া রোগীদের ৯০ দশমিক ৬ শতাংশ জীবিত ছিলেন, আর কেমোথেরাপি পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ। ওষুধটির সুফল হরমোন রিসেপ্টর-পজিটিভ ও হরমোন রিসেপ্টর-নেগেটিভ—দুই ধরনের স্তন ক্যানসারেই দেখা গেছে।
তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও গবেষণায় স্পষ্ট। ওষুধ পাওয়া রোগীদের ৮৪ শতাংশের বেশি রোগীর গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যেখানে কেমোথেরাপির ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬৮ শতাংশ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রক্তশূন্যতাসহ রক্তসংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বিষক্রিয়া (টক্সিসিটি) বেশি ঘটেছে এবং প্রায়ই ওষুধের মাত্রা বদলাতে হয়েছে, যদিও তাদের ভাষ্যে এসব প্রভাব সাধারণত সামলানো সম্ভব হয়েছে। একই ধরনের অন্য চিকিৎসার তুলনায় এই ওষুধে ফুসফুসের গুরুতর সমস্যা কম হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না থাকা টেক্সাসভিত্তিক স্তন সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট লরেন রুর্ক ফলাফলকে ‘অবিশ্বাস্যভাবে উৎসাহব্যঞ্জক’ বলেছেন। তার ভাষ্যে, অগ্রসর স্তন ক্যানসার নিয়ে বেঁচে থাকা নারীদের কাছে এই অতিরিক্ত মাসগুলোর মূল্য অনেক—এই সময়ে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। একই সঙ্গে তিনি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিবেচনার গুরুত্বের কথা বলেছেন, কারণ ক্যানসার না বাড়া অবস্থায় বেশি সময় থাকা মানেই সব সময় জীবনযাত্রার মান ভালো হওয়া নয়।
রুর্কের মতে, আরও গবেষণা প্রয়োজন। এই চিকিৎসা ক্যানসারের অগ্রগতি বিলম্বিত করেছে, কিন্তু রোগীদের আয়ু বাড়াবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি—এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।




