ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মুক্তির চেয়ে বেশি বন্দী ফেরত গেলেন কারাগারে

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে চলতি বছরের প্রথমার্ধে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া মানুষের চেয়ে বেশি বন্দীকে আবার কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়েছে, যদিও সরকার কারাগারের ভিড় কমাতে উদ্যোগ নিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিচার মন্ত্রণালয়ের (এমওজে) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরু থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত ১২ হাজার ৩৩৮ জনকে আবার কাস্টডিতে ফেরত নেওয়া হয়, যেখানে মুক্তি পেয়েছেন ১২ হাজার ২৭৮ জন।
জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকেও একই প্রবণতা ছিল—তখন ১৩ হাজার ১৯৩ জনকে কারাগারে ফেরত নেওয়া হয় এবং মুক্তি পান ১২ হাজার ৯৭৭ জন।
জুন পর্যন্ত এক বছরে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের পর মোট ৫২ হাজার ৭১৬ বন্দীকে আবার কারাগারের ভেতরে নেওয়া হয়েছে, যা আগের ১২ মাসের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারের ধারণক্ষমতা সংকটের অন্যতম কারণ এই উচ্চ ফেরতের হার, এবং এটি এই মাসের শুরুতে আগাম মুক্তির কর্মসূচি নেওয়ার পেছনেও ভূমিকা রেখেছে।
এসডিএস৪০ নামের জরুরি আগাম মুক্তি কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৭৯ হাজার ২৭৪ বন্দী আগাম মুক্তি পেয়েছেন। ওই কর্মসূচিতে কিছু বন্দীর সাজার কারাভোগের অনুপাত ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছিল।
জরুরি ব্যবস্থাটি ১ অক্টোবর থেকে সেন্টেন্সিং অ্যাক্ট ২০২৬-এর আওতায় স্থায়ী আগাম মুক্তি কর্মসূচি দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলে তথ্যে জানানো হয়েছে।
হাওয়ার্ড লিগ ফর পেনাল রিফর্ম বলেছে, উদ্বেগজনক হারে এই ফেরতের ঘটনা একটি ভয়াবহ সমস্যাকে আরও খারাপ করছে। সংস্থাটির যোগাযোগ প্রধান রব প্রিস বলেছেন, দীর্ঘদিনের ভিড়, কর্মীসংকট ও খারাপ অবস্থার কারণে কারাগারব্যবস্থা প্রচণ্ড চাপে রয়েছে।
বিচার মন্ত্রণালয় বলেছে, নিয়ম ভঙ্গকারীদের আবার কারাগারে ফেরত নেওয়া জরুরি। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, নীতিগত পরিবর্তনের কারণে এখন বেশির ভাগ অপরাধীকে সাজার শেষ পর্যন্ত আটক না রেখে ৫৬ দিন পর আবার ছেড়ে দেওয়া হয়, যা ফেরতের সংখ্যা বাড়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
কারাগারের নিরাপত্তা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে কারাগারে ৩৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৬৬ জনের মৃত্যু আত্মঘাতী হিসেবে নথিভুক্ত। একই সময়ে জুন পর্যন্ত এক বছরে আত্মক্ষতির ঘটনা ঘটেছে ৬৮ হাজার ২৩১টি।




