১৬৮ জন নিহতের আবাসিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষমা চাইলেন হংকংয়ের নেতা: প্রতিবেদনে ‘দশকের পর দশক ব্যর্থতা’, দায় চার দপ্তরের ওপর

গত বছর ১৬৮ জন নিহত হওয়া আবাসিক ভবনের অগ্নিকাণ্ডে সরকারি ঘাটতির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন হংকংয়ের নেতা ও প্রধান নির্বাহী জন লি। সরকারি সংস্থাগুলোর ‘দশকের পর দশক ধরে ব্যর্থতা’র কথা উল্লেখ করা একটি প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বৃহস্পতিবার তিনি ও আরও সাতজন কর্মকর্তা মাথা নত করে ক্ষমা চান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ প্রাণহানির জন্য চারটি দপ্তরকে ‘আংশিক দায় বহন করতে হবে’। এখন পর্যন্ত একজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন—আবাসন সচিব উইনি হো।
গত নভেম্বরে সম্ভবত একটি সিগারেট থেকে শুরু হওয়া ছোট আগুন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সের আটটি টাওয়ারের সাতটিকে গ্রাস করে। সংস্কারকাজের জন্য কমপ্লেক্সটি বাঁশের মাচান ও জাল দিয়ে ঢাকা ছিল।
এই অগ্নিকাণ্ড ১৯৮০ সালের পর বিশ্বে আবাসিক ভবনে সবচেয়ে প্রাণঘাতী আগুন। উপেক্ষিত সতর্কতা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও বন্ধ করে রাখা ফায়ার অ্যালার্ম নিয়ে দায় কার—সাবেক বাসিন্দা ও নিহতদের পরিবার সেই উত্তর খুঁজছিল।
কর্তৃপক্ষ এই অগ্নিকাণ্ডে ভূমিকার জন্য সাত ব্যক্তি ও দুটি কোম্পানির বিরুদ্ধে নরহত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনেছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্বাধীন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের ‘প্রধান অপরাধী’ বেসরকারি ঠিকাদাররা; তবে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ‘শিথিল তদারকি’র অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারটি দপ্তর ঝুঁকি ভালোভাবে বুঝে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে ‘বাস্তব সম্ভাবনা ছিল’ যে বেসরকারি পক্ষগুলোর অনিয়ম এবং ওয়াং ফুক কোর্টের অগ্নিঝুঁকি আগুনের আগেই সংশোধন বা দূর করা যেত।
লি জানিয়েছেন, সরকারের ভূমিকা নিয়ে এখন তিন মাসের একটি তদন্ত শুরু হবে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তিনি গভীরভাবে দুঃখিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ও সাধারণ জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছেন। আবাসনমন্ত্রী হো-কে ‘রাজনৈতিক দায়িত্ব বহন করতে হবে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে আগুনে স্ত্রী ও বাড়ি হারানো ইপ কা-কুই সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের দায় স্বীকারকে তিনি যথেষ্ট মনে করেন না। বার্তা সংস্থা এএফপি অনুযায়ী তিনি বলেন, নাম আসা দপ্তরগুলোর সব সচিবের পদত্যাগ করা উচিত; প্রশাসনিক দায় তো কমই, রাজনৈতিক জবাবদিহি আরও কম।
মাকে আগুনে হারানো ফিলিস লো বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে ন্যায়বিচার এখনো মেলেনি। কর্মকর্তাদের ক্ষমা দেরিতে এলেও কিছু না হওয়ার চেয়ে তা ভালো বলেও তিনি যোগ করেন।
বৃহস্পতিবার লি প্রতিশ্রুতি দেন, ‘একই ধরনের ঘটনা আর কখনো ঘটতে দেওয়া হবে না।’ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কর্তৃপক্ষ ‘পদ্ধতিগত সংস্কার’-এর প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দরপত্রে কারসাজি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং অভিযোগব্যবস্থার সংস্কার।
প্রতিবেদনের ভাষায়, ‘আগুন নিভেছে, কিন্তু সংস্কার মাত্র শুরু হয়েছে।’




