মিরপুর টেস্ট: ব্যাটিং ধসের পর স্পিনারদের লড়াইয়ে দিন শেষে ১৩৮ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আলোক স্বল্পতায় ম্যাচ অফিশিয়ালরা যখন দিনের খেলা শেষ করেন, তখন ১৩৮ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে রানের হিসাবে স্বাগতিকেরা এগিয়ে থাকলেও দিনের বড় অংশজুড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দাপটই ছিল বেশি; শেষ সেশনে স্পিনারদের লড়াকু বোলিংয়েই দিনটা পুরোপুরি হাতছাড়া হয়নি বাংলাদেশের।
৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা বাংলাদেশের সামনে বড় পুঁজির সুযোগ ছিল। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন ৪০০ রানের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় এর ধারে-কাছেও পৌঁছায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ৫১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। অলআউট হওয়ার পেছনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের চেয়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররাই বেশি দায়ী ছিলেন।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা ওপেনার সাদমান ইসলাম। দিনের দ্বিতীয় বলেই সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি—ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। তবে ইনিংসটাকে আর বেশি দূর নিতে পারেননি; জশুয়া বিশপের বলে এলবিডব্লু হয়ে ফেরার আগে সাদমান করেন ১০৫ রান।
সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন তাওহীদ হৃদয়। আগের দিন ৪২ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া এই ব্যাটার দ্বিতীয় দিনে আর কোনো রানই করতে পারেননি। ষষ্ঠ উইকেটে লিটন দাসের সঙ্গে ৩২ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের আভাস দিলেও মেহেদী হাসান মিরাজের ইনিংস ১৫ রানের বেশি স্থায়ী হয়নি; জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে ডিফেন্সের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বোল্ড হন এই অলরাউন্ডার। এরপর লিটনকে একপাশে রেখে নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম একে একে বিদায় নিলে ২৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। যোগ্য সঙ্গ না পাওয়ায় লিটনের ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস বড় করার সুযোগ হয়নি।
স্বাগতিক ব্যাটারদের সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা নিয়েছেন জোমেল ওয়ারিক্যান। টানা ভালো জায়গায় বল ফেলেছেন তিনি, তাঁর টার্ন সামলাতেও হিমশিম খেয়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা। আগের দিনের ২ উইকেটের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনে তাঁর শিকার আরও ৩টি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দিনের খেলা শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ২৯ রানে ব্র্যান্ডন কিং (১৫) বিদায় নেওয়ার পর জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারায়ণ চন্দরপলের প্রতিরোধে চিন্তা বাড়ছিল বাংলাদেশের। দুই পেসার শরীফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদকে দিয়ে ১১ ওভার করানোর পর টানা স্পিনার ব্যবহার করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামদের বোলিংয়েও উইকেটের দেখা মিলছিল না।
অবশেষে শেষ সেশনে ব্রেক-থ্রু এনে দেন মিরাজ; তাতে বড় অবদান অধিনায়ক শান্তর। ক্যাম্পবেলের ব্যাটে লেগে আসা বল স্লিপে একদিকে ঝাঁপিয়ে তালুবন্দী করেন শান্ত। সেই ক্যাচের ভিডিও পোস্ট করে সাবেক অধিনায়ক, বর্তমানে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে কর্মরত শাহরিয়ার নাফীস ফেসবুকে লিখেছেন, ‘স্কিপার হ্যাজ উইংস।’ ক্যাম্পবেল ৫৪ রানে আউট হলে দ্বিতীয় উইকেটে তেজনারায়ণের সঙ্গে তাঁর ৬১ রানের জুটি ভাঙে।
এরপর ৩৬তম ওভারে বাংলাদেশকে জোড়া শিকার এনে দেন তাইজুল ইসলাম। তিন বলের মধ্যে কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গোকে ফেরান তিনি; ৯৭ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ পর্যন্ত ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের খেলা শেষ করেন তেজনারায়ণ চন্দরপল (৪৩) ও জাস্টিন গ্রিভস (১৫)। তেজনারায়ণ তাঁর ৪৩ রান করেছেন ১৪৫ বল খেলে—উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইনিংসে সাদমান ইসলাম বাদে কেউ ১০০ বলও খেলতে পারেননি। ক্যারিবীয় কিংবদন্তি শিবনারায়ণ চন্দরপলের ছেলে তেজনারায়ণ যেন বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আদর্শ টেস্ট ব্যাটার হওয়ার পথেই হাঁটছেন।
মেঘলা কন্ডিশনে খেলা যত এগোচ্ছে, মিরপুরের উইকেট তত স্পিনসহায়ক হয়ে উঠছে। এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের স্পিনারদের মূল কাজ হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত অলআউট করা।




