ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যা, পশ্চিমবঙ্গ-আসামে সতর্কতা, নজরে বাংলাদেশও

ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যা (গ্লেশিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা জিএলওএফ) হয়েছে। এতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার শিনতাফু হ্রদে এ ঘটনা ঘটে।
বন্যায় মো ছু নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণকেন্দ্র গাসা ছাচুর সব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ভেসে গেছে। তবে আগেই ওই এলাকা থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
শিনতাফু হ্রদকে ভুটানের সম্ভাব্য বিপজ্জনক ১৭টি হিমবাহ হ্রদের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হ্রদটি মো ছু নদীর উৎপত্তিস্থলে অবস্থিত। এর আগে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় গাসা ছাচু সম্পূর্ণভাবে ভেসে গিয়েছিল; সেবার মো ছু নদীর প্রবল স্রোতে নদীটির গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে উষ্ণ প্রস্রবণকেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়েছিল।
এবারের বন্যার পানি ইতিমধ্যে পুনাখা জং থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে কাবেসা গেওগের স্রিগাং এলাকা অতিক্রম করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্রদ থেকে প্রায় ৭৪ লাখ ঘনমিটার পানি নদীতে নেমে এসেছে এবং পানির এই প্রবাহ ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে পুনা-১ বাঁধ এলাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভুটান সরকার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সরকারকে সতর্ক করেছে। ভুটানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এসব রাজ্যের কয়েকটি জেলা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে আসামের ধুবড়ি জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়ি এলাকা, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলা।
পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকোশ নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়েছে। উত্তর ভুটানে উৎপত্তি হওয়া সংকোশ নদী উজানের কয়েকটি প্রধান উপনদীর মিলিত প্রবাহে গঠিত, যার মধ্যে রয়েছে মো ছু ও ফো ছু। নদীটি পরে আসামে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিশেছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পশ্চিমবঙ্গের সংকোশ নদীর নিম্ন অববাহিকার সব পর্যবেক্ষণকেন্দ্রকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের (সিডব্লিউসি) বারোবিশা, সংকোশ এলআরপি, গোলকগঞ্জ ও বালাডোবা পর্যবেক্ষণকেন্দ্রকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নদীর পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে, প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে এবং পানির স্তরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নদীর নিম্ন অববাহিকা ও আশপাশের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
উৎপত্তিস্থল ভুটান হলেও বন্যার পানি যে নদীব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। সংকোশ নদী ব্রহ্মপুত্রে মিশেছে, আর ব্রহ্মপুত্র নদ আসাম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে উজানের এই আকস্মিক বন্যার পানি ভাটির দিকে অগ্রসর হলে বাংলাদেশেও পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কার মাত্রা নির্ভর করবে বন্যার পানির পরিমাণ, নদ-নদীর প্রবাহ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির গতিপ্রকৃতির ওপর।




