খুলনায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হুমকিতে বন্ধ টুটপাড়ার ‘চয়নিকা’ ফার্মেসি, ঘর ছেড়েছেন ব্যবস্থাপক

খুলনা নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ওষুধের দোকান ‘চয়নিকা ফার্মেসি’র মালিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ফার্মেসিটি বন্ধ রেখেছেন মালিকপক্ষ, আর ব্যবস্থাপকও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, পাঁচ দিন আগে খুলনার একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধানের পরিচয়ে চয়নিকা ফার্মেসির ম্যানেজার বাবুর কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ফার্মেসির মালিককে বিষয়টি জানাতে বলা হয়। ম্যানেজার তখন জানান, তিনি কেবল একজন কর্মচারী।
এরপর গত বুধবার সন্ধ্যায় অস্ত্রধারী দুই সন্ত্রাসী সরাসরি ফার্মেসিতে এসে চাঁদার টাকা প্রস্তুত না রাখলে ম্যানেজার বাবুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর থেকেই ফার্মেসি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
ফার্মেসির আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, তাঁরা সাধারণত গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে চয়নিকা ফার্মেসি বন্ধ রয়েছে এবং বৃহস্পতিবারও (২৯ অক্টোবর) দোকানটি খোলা হয়নি। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
চয়নিকা ফার্মেসির মালিকের বাড়িতে গেলে প্রথমে তাঁর অনুপস্থিতির কথা জানানো হয়। পরে তিনি জানালার আড়াল থেকে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন, তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
মিয়াপাড়া সুলতানা হামিদ আলী স্কুলের পাশের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় থাকেন ফার্মেসিটির ম্যানেজার বাবু। সেখানে গিয়ে তাঁর ঘরের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়। প্রতিবেশীরা জানান, বাবু কবে ও কখন বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন, তা তাঁরা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন রিপন বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগীরা নির্দিষ্ট করে কারও নাম বা সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাননি এবং থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও করেননি। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে চাঁদা না দেওয়ায় নগরীর কুইন্স হাসপাতাল, সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চাইনিজ প্যালেসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে খুলনা নগরীর সন্ধানী ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা ১০-১২ জনের একটি দল সেখানে হামলা চালায়। সেসময় খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন জানিয়েছিলেন, ক্লিনিক লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
ওই ঘটনার পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে চার-পাঁচজন যুবক নগরীর আহসান আহমেদ রোডের পিটিআই মোড়সংলগ্ন চাইনিজ প্যালেস রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।




