মাশরুম খাইয়ে তিনজনকে হত্যা: এরিন প্যাটারসনের আপিল খারিজ, প্যারোলের সুযোগও বাতিল

অস্ট্রেলিয়ার মাশরুম-হত্যা মামলায় দণ্ডিত এরিন প্যাটারসন তাঁর সাজা বাতিলের আপিলে হেরে গেছেন। আপিল আদালত শুধু আপিল খারিজই করেননি, সেই সঙ্গে রায় দিয়েছেন—তিনি কখনো কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন না।
ভিক্টোরিয়ার আপিল আদালতে শুক্রবার তিন বিচারপতি প্যাটারসনের আপিলের সব যুক্তি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে তাঁরা রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে একমত হন যে আগের সাজা যথেষ্ট ছিল না, কারণ তাতে মুক্তির সম্ভাবনা রাখা হয়েছিল।
বিচারপতিদের পক্ষে বিচারপতি স্টিফেন ম্যাকলিশ আদালতে বলেন, ‘আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে মামলাটিতে এমন মর্মান্তিক অপরাধ ঘটেছে যে প্যারোলহীন মেয়াদ নির্ধারণ করা অনুচিত হবে।’
বিচারপতিরা প্যাটারসনের অপরাধকে ‘অসাধারণভাবে ঠান্ডা মাথায় ও পরিকল্পিত’ বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এর ‘কঠোরতম ভাষায় নিন্দা’ জানাতে হবে।
প্যাটারসন (৫২) ২০২৩ সালে নিজের বাড়িতে দুপুরের খাবারে বিষাক্ত মাশরুম মেশানো খাবার পরিবেশন করে তিন আত্মীয়কে হত্যা ও আরেকজনকে হত্যাচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, তিনি তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি ডন ও গেইল প্যাটারসন এবং গেইলের বোন হিদার উইলকিনসনকে ডেথ ক্যাপ মাশরুম মেশানো বিফ ওয়েলিংটনের আলাদা আলাদা অংশ খাইয়ে হত্যা করেন।
একই খাবার খেয়ে হিদারের স্বামী, স্থানীয় প্যাস্টর ইয়ান উইলকিনসনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে কাটিয়ে বেঁচে যান, তবে বিষক্রিয়ার কারণে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা রয়ে গেছে। তাঁকে হত্যাচেষ্টার দায়েও প্যাটারসন দোষী সাব্যস্ত হন।
প্যাটারসনের বিচ্ছিন্ন স্বামী সাইমন প্যাটারসনেরও ওই খাবারে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি যাননি। তাঁর ধারণা ছিল, স্ত্রী কয়েক বছর ধরে বারবার তাঁকে বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছেন।
গত সেপ্টেম্বরে প্যাটারসনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৩৩ বছরের প্যারোলহীন মেয়াদ রাখা হয়েছিল। বিচারিক বিচারক তাঁর সম্ভাব্য ‘কঠোর কারাজীবনের’ কথা বিবেচনা করে ওই সুযোগ রেখেছিলেন।
এরপর প্যাটারসন দ্রুত আপিল করেন। আগস্টে তাঁর আইনজীবীরা আপিলে সাতটি যুক্তি তোলেন। তাঁদের দাবি ছিল, জুরি বোর্ডকে রাষ্ট্রপক্ষ, একজন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ সাক্ষী ও গণমাধ্যমের সঙ্গে একই হোটেলে রাখার ভুল ছিল ‘বিপর্যয়কর’ এবং তা বিচারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করেছে।
আইনজীবীরা আরও বলেন, জুরিকে দেখানো কিছু প্রমাণ অপ্রাসঙ্গিক ও পক্ষপাতমূলক ছিল—যেমন ডেথ ক্যাপ মাশরুম পাওয়া যেতে পারে এমন এলাকায় প্যাটারসনের যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া সেল টাওয়ার তথ্য এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিয়ে তাঁর অভিযোগের ফেসবুক পোস্ট। বিচারক মাশরুম সংগ্রহের দীর্ঘদিনের শখের প্রমাণ আটকে দিয়েছিলেন বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। পাঁচ দিনের জেরাকে ‘অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক’ এবং রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশ্য সংক্রান্ত যুক্তিকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও দাবি করা হয়।
শুক্রবার আপিল বিচারপতিরা সাতটি যুক্তির সবকটিই খারিজ করে দেন। ফলে প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন সাজাই বহাল থাকল।
প্যাটারসনের হাতে এখন ২৮ দিন সময় আছে—তিনি অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টে আরেকটি আপিল শুনানির অনুমতি চাইবেন কি না, তা ঠিক করতে হবে।



