নিষেধাজ্ঞা শেষে কুয়াকাটায় ফিরল জেলেরা, অল্প ইলিশ পেয়ে হতাশ, ঘাটে ভিড় ভাঙা ট্রলারের

নিষেধাজ্ঞা শেষে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ছোট ট্রলার নিয়ে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে যাওয়া জেলেরা ঘাটে ফিরতে শুরু করেছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে তাঁরা অল্প কিছু ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফেরেন।
ইলিশের বাধাহীন প্রজননের জন্য গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাগর ও নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল সরকার।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অবরোধ শেষ হওয়ার পর একের পর এক ট্রলার গভীর সাগরে যাত্রা করে। রাতে যেসব ট্রলার গভীর সাগরে গিয়েছে, তারা এখনো ঘাটে ফেরেনি। তবে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যাওয়া খুটা ট্রলারের (ছোট ট্রলার) জেলেরা ফিরেছেন সামান্য মাছ নিয়ে।
কুয়াকাটার ঝাউ বাগান সংলগ্ন এলাকার জেলে সোহেল মীর বলেন, ‘রাত ১২টার পরে সাগরে গিয়েছিলাম। চর বিজয় সংলগ্ন সাগরে জাল ফেলার পর কয়েকটি ইলিশ পেয়েছি। যেহেতু আমরা নিষেধাজ্ঞা মেনেছি, তাই আশা করেছিলাম ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ফিরব। মাছ ধরা না পড়লে আমরা নতুন করে ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়ব।’
এই জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক সপ্তাহ আগে গভীর সাগরে যাওয়া কিছু ট্রলার একই সময়ে ঘাটে ফিরেছে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ নিয়ে।
শুক্রবার সকালে দেশের বৃহৎ বন্দর মহিপুর ও আলীপুরে ভিড়েছে কিছু ইলিশভর্তি ট্রলার। এসব ট্রলারের জেলেরা এক সপ্তাহ আগে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সাগরে গিয়ে মাছ শিকার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে কয়েকটি অবৈধ ট্রলিং ট্রলারও রয়েছে।
এসব ট্রলার ফেরায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। শুধু ইলিশ নয়, বাজারে সামুদ্রিক অন্যান্য মাছের প্রাচুর্যও লক্ষ্য করা গেছে। তবে ইলিশের দাম কমেনি।
নিলামের মাধ্যমে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে। গভীর সাগর থেকে মাছ ধরা সব ট্রলার তীরে ফিরলে দাম কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের জেলে মাইনুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ট্রলার মেরামত শেষ না হওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সাগরে যেতে পারিনি। শুক্রবার রাতে আমরা সাগরে যাব। যারা নিষেধাজ্ঞা মেনেছে, তারা কিন্তু মাছ পায়নি। বৃহস্পতিবার রাতে যেসব খুটা ট্রলার সাগরে গিয়েছে, তারা বলতে গেলে অনেকটা শূন্য হাতে ফিরেছে। আর যারা নিষেধাজ্ঞা না মেনে সাগরে মাছ ধরেছে, তারা কিন্তু মাছ নিয়ে ফিরেছে।’
মাইনুদ্দিন আরও বলেন, ‘শুধু আমাদের দেশের ট্রলারই নয়, ভারতের জেলেরাও কিন্তু এই অবরোধকালীন সময়ে আমাদের দেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ শিকার করেছে। তাই নিষেধাজ্ঞার সময় সাগরে প্রশাসনের টহল বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।’
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘আমরা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফল করতে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছি। কিছু অসাধু জেলেকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। আশা করছি, সব জেলেরা মাছ পাবে। যারা গভীর সাগরে জাল ফেলতে পারবে, তারা বেশি মাছ পাবে।’




