লন্ডনের হাইকোর্টে হারল মেটা, টিকটক ও এক্স: অফকমের তথ্য চাওয়ার নোটিশ বহাল
যুক্তরাজ্যের অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের আওতায় তথ্য চাওয়ার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে হেরেছে মেটা, টিকটক ও এক্স। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) লন্ডনের হাইকোর্ট এই রায় দেন। দেশটির নতুন অনলাইন নিরাপত্তা আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে এটি প্রথম দিককার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি।
২০২৩ সালে প্রণীত এই আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে এটি একটি। আইনটিতে টিকটক, এক্স এবং মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য কঠোর নিরাপত্তাবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষতিকর ও অবৈধ কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এই আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
অফকম ধাপে ধাপে অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের ব্যবস্থা চালু করছে। সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রেখে এই শর্তগুলো বলবৎ করা হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেটা, টিকটক ও এক্সকে তথ্য চেয়ে নোটিশ দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। নোটিশে কনটেন্ট মডারেশনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান চাওয়া হয়—এর মধ্যে ছিল কতগুলো পোস্ট সরানো হয়েছে বা দৃশ্যমানতা সীমিত করা হয়েছে এবং কতজন ব্যবহারকারী ক্ষতিকর কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছেন, সেই তথ্য।
তিন প্রতিষ্ঠান যুক্তি দেয়, নোটিশগুলো নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণমূলক বোঝা তৈরি করছে। এক্স দাবি করে, কোনো নিয়ন্ত্রকের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বোঝাস্বরূপ তথ্য অনুরোধ মেটাতে তাদের কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হবে।
তবে হাইকোর্ট তাদের মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। রায়ে তথ্য চাওয়ার বিষয়টি অসামঞ্জস্যপূর্ণ—প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন যুক্তি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে অফকমের এক মুখপাত্র বলেন, কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতার একটি মৌলিক অংশ।
শুক্রবারের রায় অফকমের জন্য বড় প্রাপ্তি হলেও লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। অফকম কীভাবে ফি ও সম্ভাব্য জরিমানা হিসাব করে, তা নিয়ে মেটার আলাদা মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ রায় এখনো আসেনি। নতুন ব্যবস্থায় হোয়াটসঅ্যাপের শ্রেণিবিন্যাস নিয়েও অফকমকে চ্যালেঞ্জ করছে মেটা।
এ মাসের শুরুতে অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের আওতায় অফকমের প্রথম আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিষয়ও হয়েছে মেটা।
মন্তব্যের অনুরোধে এক্স ও মেটা তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। টিকটক জানিয়েছে, তারা রায়টি বিবেচনা করছে; তবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। শুক্রবার সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।




