লাইবেরিয়ার সাবেক বিদ্রোহী কমান্ডার কোসিয়ার ২০ বছরের সাজা বহাল সুইজারল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালতে
সুইজারল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালত লাইবেরিয়ার সাবেক বিদ্রোহী কমান্ডার আলিউ কোসিয়ার ২০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে। তবে আদালত তার মানবতাবিরোধী অপরাধের দণ্ড বাতিল করেছে।
আদালতের রায়টি ২৮ সেপ্টেম্বর তারিখের হলেও শুক্রবার তা প্রকাশ করা হয়। এক বিবৃতিতে আদালত বলেছে, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে লাইবেরিয়ার প্রথম গৃহযুদ্ধের সময় যুদ্ধের আইন লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ডের বিরুদ্ধে একজন উচ্চপদস্থ লাইবেরীয় সামরিক কর্মকর্তার করা আপিল খারিজ করা হয়েছে।
২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ক্রিমিনাল কোর্ট কোসিয়াকে একাধিক নৃশংসতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। লাইবেরিয়ার পরপর দুটি গৃহযুদ্ধে ১৯৮৯ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ প্রাণ হারান।
২০২৩ সালে আপিল চেম্বার যুদ্ধাপরাধের দায়ে তার ২০ বছরের সাজা বহাল রাখে এবং সুইজারল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোসিয়াকে মানবতাবিরোধী অপরাধেও দোষী সাব্যস্ত করে।
সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে ‘নন-রেট্রোঅ্যাক্টিভিটি’ নীতির কঠোর প্রয়োগের ভিত্তিতে। আদালত জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধ ২০১১ সালে সুইস আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়, তাই তার আগের ঘটনায় তা প্রয়োগ করা যায় না।
তবে যুদ্ধের আইন লঙ্ঘনের দণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড দুটোই বহাল রাখা হয়েছে। কোসিয়ার বর্তমান বয়স ৫১ বছর।
সুইজারল্যান্ড সর্বজনীন বিচারক্ষমতার নীতি স্বীকার করে, যার ফলে অপরাধ যেখানেই ঘটুক না কেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের সন্দেহভাজনদের বিচার সেখানে করা যায়।
কোসিয়া ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে সুইজারল্যান্ডে বসতি গড়েন এবং ২০১৪ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে কাজ করা সুইস সংগঠন সিভিটাস ম্যাক্সিমা বলেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সুইজারল্যান্ডের কোনো বেসামরিক আদালতের দেওয়া প্রথম যুদ্ধাপরাধের দণ্ড চূড়ান্ত হলো, এবং লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের জন্য কোনো লাইবেরীয়ের প্রথম দণ্ডও এটিই।
সিভিটাস ম্যাক্সিমার পরিচালক অ্যালাইন ওয়ার্নার, যিনি মামলায় ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিত্ব করেন, বলেছেন, ‘আজ আলিউ কোসিয়ার অপরাধের ভুক্তভোগীরা চূড়ান্ত ন্যায়বিচার পেয়েছেন।’ তবে মানবতাবিরোধী অপরাধে খালাসে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে লোফায় যা ঘটেছিল, তা মানবতাবিরোধী অপরাধেরই সংজ্ঞা।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, কোসিয়া বেসামরিক মানুষ ও নিরস্ত্র সৈন্যদের হত্যা করেন এবং লুটপাটসহ অন্যান্য অপরাধের নির্দেশ দেন।


