পোল্যান্ডে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি স্থগিত, আদালতের বাইরে পুলিশ মোতায়েন ও বিক্ষোভ
পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির স্থগিতাদেশের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ার পর আদালতের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার তারা সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে, কারণ বাইরে পুলিশের দিকে বস্তু নিক্ষেপসহ নানা ঘটনা ঘটেছিল।
আদালত শুক্রবার প্রধান বিচারপতি বোগদান সুইয়েচকোভস্কিকে স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা ওয়ারশর এই আদালতে নেমে আসেন। তাঁর স্থগিতাদেশ একটি দীর্ঘদিনের বিরোধের অংশ, যা কার্যত আদালতটিকে অচল করে দিয়েছে।
গত ছয় মাস ধরে সুইয়েচকোভস্কি আদালতপ্রধান হিসেবে তাঁর ক্ষমতা ব্যবহার করে বর্তমান সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের নির্বাচিত বিচারপতিদের আদালতের দায়িত্ব নেওয়া আটকে রেখেছিলেন।
বিচারমন্ত্রী ভালদেমার জুরেক শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, বিচারপতিদের কাজ করতে বাধা দিয়ে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য তিনি সুইয়েচকোভস্কি ও তাঁর ডেপুটির বিচারিক দায়মুক্তি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন।
সুইয়েচকোভস্কিকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছিল পোল্যান্ডের সাবেক জাতীয়তাবাদী ল অ্যান্ড জাস্টিস (পিআইএস) সরকার, যার বিরুদ্ধে সমালোচকরা দেশের আদালতগুলোকে রাজনীতিকরণের অভিযোগ করেছেন।
সুইয়েচকোভস্কির স্থগিতাদেশের খবরের পর প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এক্সে বলেন, আইনের শাসন পুনরুদ্ধার করা সরকারের দায়িত্ব। সিভিক কোয়ালিশন দলের নেতা টাস্ক বলেন, ‘পিআইএসের অধীনে বছরের পর বছর আইনহীনতার পর এই প্রক্রিয়া কঠিন, মাঝে মাঝে বেদনাদায়কও, এবং এতে দৃঢ় পদক্ষেপ দরকার। অন্য কোনো পথ নেই।’
স্থগিতাদেশের খবরে পিআইএস সমর্থকরা সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের ফটকে ভিড় করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভিড়ের কেউ কেউ ‘বিপজ্জনক বস্তু’ ছোড়ার পর তারা তিনজনকে আটক করেছে।
একই দিন শুক্রবার পিআইএস-ঘনিষ্ঠ পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাভরোৎস্কি সেনেগালে একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে তাঁর বিমান ঘুরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘এমন মুহূর্তে প্রেসিডেন্টকে পোল্যান্ডেই থাকতে হয়।’
২০২৫ সালের মাঝামাঝি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নাভরোৎস্কি পোল্যান্ডের সংসদ মনোনীত ছয়জন বিচারপতির মধ্যে তিনজনকে শপথ পড়াতে অস্বীকার করে আসছেন।
পোল্যান্ডের সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘদিন ধরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। পোল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা পিআইএস দল ও তার নীতির অনুকূল বিচারপতি নির্বাচন করে আদালতের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে দিয়েছিল।
পোল্যান্ডের ইউরোপপন্থী সরকার ক্ষমতায় এসে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে তা করার দুটি উদ্যোগ পিআইএস-ঘনিষ্ঠ দুই প্রেসিডেন্ট ভেটো দিয়েছেন, যাঁদের একজন নাভরোৎস্কি।
আনা কোরউইন-পিওত্রোভস্কা, যাঁকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ত্রুটির অভিযোগে নাভরোৎস্কি শপথ পড়াতে অস্বীকার করেছিলেন, তাঁকেই এখন সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে বসানো হয়েছে।
বর্তমানে পোল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বিরোধী শক্তি পিআইএসের রাজনীতিকরা সুইয়েচকোভস্কির স্থগিতাদেশের সমালোচনা করেছেন। সাবেক বিচারমন্ত্রী জবিগনিয়েভ জিওব্রো শুক্রবার এক্সে লিখেছেন, ‘এটি সাংবিধানিক শৃঙ্খলার ওপর নির্লজ্জ, অপরাধমূলক আক্রমণ।’

