পূর্ব লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ: দুই বাংলাদেশি সন্দেহভাজনকে ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার

পূর্ব লন্ডনে ২০২৪ সালের একটি যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দারা বলছেন, অভিযুক্তরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও ইউরোপে পালিয়ে গেছেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে।
পুলিশের খোঁজা দুই ব্যক্তি হলেন ৩৪ বছর বয়সী জাহিদুল হাসান জায়গিরদার এবং ৩১ বছর বয়সী শওকত আহমেদ। দুজনেরই টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিনের উইভার্স ফিল্ডস এলাকায় ১৩ বছরের এক কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওইদিন রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে ভুক্তভোগী কিশোরী হোয়াইটচ্যাপেল রোডে দুই ব্যক্তির মুখোমুখি হওয়ার কথা জানায়। অভিযোগ, ওই দুই ব্যক্তি তাকে উইভার্স ফিল্ডস এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখানে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়।
হামলার পর এক পথচারী ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেন। পুলিশ বলছে, সেই প্রাথমিক পদক্ষেপই কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে ও পরবর্তী তদন্ত শুরু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর গত দুই বছর ধরে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কর্মকর্তারা তদন্ত চালিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর তদন্তে বড় মোড় আসে, যখন মেট্রোপলিটন পুলিশ জনগণের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এখন জায়গিরদার ও আহমেদকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চলছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশ প্রথম এই মামলার তথ্য প্রকাশ করার পরপরই জায়গিরদার বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে শওকত আহমেদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত এড়াতে ইউরোপীয় ভ্রমণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও পুলিশ যুক্তরাজ্যেই তার উপস্থিতির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি।
অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স সন্ধানদাতাদের জন্য এই পুরস্কার ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সাহায্য করে — এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পুরস্কার রয়েছে, এবং তথ্য প্রদানকারীরা সম্পূর্ণ বেনামে তথ্য দিতে পারবেন।
তদন্তের নেতৃত্বে থাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর আনা ডেইটন জনসাধারণের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং আরও তথ্যের জন্য আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, এই অপরাধের রিপোর্ট পাওয়ার পর থেকে ব্যাপক খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে, সেপ্টেম্বরে আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা তথ্য দিয়েছেন তিনি তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চান, এবং প্রাপ্ত তথ্য তদন্তকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।
ডেইটন এমন যে কাউকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, যিনি দুজনের অবস্থান সম্পর্কে জানেন বা তদন্তে সহায়তা করতে পারে এমন কোনো তথ্য জানেন। তিনি আহমেদ ও জায়গিরদারকেও অবিলম্বে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশ বাংলাদেশ ও ইউরোপে সমকক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে। দুই সন্দেহভাজনই বর্তমানে ওয়ান্টেড বা পলাতক তালিকায় রয়েছেন।




