এসিএল চোট কাটিয়ে কোর্টে ফিরলেন জুজু ওয়াটকিন্স, প্রথম বাস্কেট নিয়ে স্বপ্নের কথা জানালেন নিজেই

যুক্তরাষ্ট্রের নারী কলেজ বাস্কেটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তরুণ তারকা জুজু ওয়াটকিন্স আবার কোর্টে ফিরেছেন। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া (ইউএসসি) দলের এই গার্ড ছেঁড়া এসিএল (হাঁটুর লিগামেন্ট) চোটের পুনর্বাসনে গত মৌসুমের বড় অংশ মাঠের বাইরে ছিলেন।
নতুন মৌসুম শুরুর আগে ওয়াটকিন্স বলেছেন, ফেরার পর প্রথম বাস্কেটটি জালে পড়ার মুহূর্তটি তিনি প্রতিদিন কল্পনা করেন। তাঁর ভাষায়, ‘এটা প্রতিদিন আমার মাথায় ঘোরে। এই বছরটা নিয়ে অনেক প্রত্যাশা জমেছে। আমি এটা খুব করে চাই, তবে সুস্থভাবে। আমি শুধু মজা করতে চাই এবং এই বছরটা সত্যিই উপভোগ করতে চাই।’
প্রথম বাস্কেটের অনুভূতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি রাতে আমি এটা নিয়ে স্বপ্ন দেখি। সত্যি বলতে, হয়তো চোখে পানি এসে যাবে, মিথ্যে বলব না। সেটা আমার জন্য সত্যিই অসাধারণ এক অনুভূতি হবে।’
ফেরার প্রস্তুতিতে এরই মধ্যে ঝলক দেখিয়েছেন ওয়াটকিন্স। ক্যালিফোর্নিয়ার বিপক্ষে ইউএসসির সাম্প্রতিক প্রীতি (প্রদর্শনী) ম্যাচে তিনি মাত্র ২২ মিনিট খেলে ১৮ পয়েন্ট করেছেন।
ইউএসসির হয়ে প্রথম দুই মৌসুমে ওয়াটকিন্সের গড় ছিল ম্যাচপ্রতি ২৫.৬ পয়েন্ট। এবার তিনি ফিরছেন প্রতিভাবান এক দলে—তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা ট্রোজানরা ১৯৮৪ সালের পর প্রথম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের খোঁজে নামছে।
ব্যাককোর্টে ওয়াটকিন্সের সঙ্গী হবেন বিগ টেনের বর্ষসেরা নবাগত খেলোয়াড় জ্যাজি ডেভিডসন, যার গত মৌসুমের গড় ছিল ১৭.৯ পয়েন্ট। এটাই হবে দুজনের একসঙ্গে খেলা প্রথম মৌসুম, তবে চোটের পুনর্বাসনের সময় থেকেই দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে; সে সময় ওয়াটকিন্সকে প্রায়ই বেঞ্চ থেকে ডেভিডসনকে উৎসাহ দিতে দেখা যেত।
ডেভিডসন বলেছেন, ‘সে দেখেছে আমি নিজের ওপর কঠোর হচ্ছি, আর আমার মনে হয় সে নিজের কিছুটা ছাপ আমার মধ্যে দেখেছে। সে জানত এই পর্যায়টা পার করা কেমন লাগে। আমরা যে বন্ধুত্ব গড়তে পেরেছি, এটা বিশাল আশীর্বাদ।’
ওয়াটকিন্সের এই চোট লেগেছিল ২০২৫ সালের এনসিএএ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিসিসিপি স্টেটের বিপক্ষে ম্যাচে। সেই চোটেই তাঁর মৌসুম শেষ হয়ে গিয়েছিল।
দলের আরও শক্তি গার্ড সানিয়াহ হল—প্রদর্শনী ম্যাচে তিনি ২৩ পয়েন্ট, ৬ রিবাউন্ড ও ৫ স্টিল করেছেন। এ ছাড়া ফরোয়ার্ড সারা ওকেকেসহ তিনজন পাঁচতারকা মানের নবাগত খেলোয়াড় দলে যোগ দিয়েছেন।
প্রধান কোচ লিন্ডসে গটলিব নতুনদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘তারা প্রমাণ করেছে, উচ্চ পর্যায়ে তারা সত্যিই প্রভাব ফেলতে পারা খেলোয়াড় হবে।’
গত মৌসুমে মাঠে নামতে না পারলেও দলের সঙ্গে ছিলেন ওয়াটকিন্স—সফরে খেলার আগে লকার রুমে দলের আলোচনার জন্য চেয়ার সাজিয়ে দিতেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘আমি অবশ্যই নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে পেরেছি, আর সত্যি বলতে আগে আমি সেই ভূমিকাটা সেভাবে নিজের করে নিতে পারিনি।’




