বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ভাষা শেখার বিকল্প নেই, বলছেন শিক্ষা পরামর্শক সুপ্রিয় কুমার চক্রবর্তী

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে ভাষা শেখার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও অভিবাসনবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শা অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রিয় কুমার চক্রবর্তী।
সুপ্রিয় কুমার চক্রবর্তী বাংলাদেশে রুশ ফেডারেশন দূতাবাসে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে ১২ বছর চাকরি করেছেন। এরপর ১৯৯৮ সালে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান শা অ্যাসোসিয়েটস গড়ে তোলেন।
তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্য নিয়ে কাজ করে এবং সাধারণত শিক্ষার্থী ভিসা ও ভ্রমণ ভিসার বিষয়ে সেবা দেয়; অনুরোধের ভিত্তিতে কিছু অভিবাসন ভিসার কাজও করে।
তাঁর মতে, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যে আইইএলটিএস ছাড়া ভর্তি ও ভিসা পাওয়া—দুটিই স্বপ্নের মতো। কিছু কিছু দেশে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা (ইএসএল) প্রোগ্রাম শেষ করার পর মূল কোর্সে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হলেও সে ক্ষেত্রে ভিসা দেওয়া হবে কি না, তা তাঁর জানা নেই।
তিনি বলেন, বিদেশে যেতে হলে সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে, তথ্যসমৃদ্ধ থাকতে হবে এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় থাকতে হবে।
তাঁর ভাষায়, বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও আইইএলটিএস বা টোফেল না করা কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা না শেখা—এটা হতে পারে না। অর্থাৎ বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভাষা শেখার বিকল্প নেই।
ভিসার ক্ষেত্রে স্পনসরসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের পরিচিত কিছু ব্যাংক শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী এফডিআর করার জন্য শিক্ষা ঋণের ব্যবস্থা করে থাকে এবং ভিসাপ্রক্রিয়ায় এই এফডিআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, এখন প্রতিটি দূতাবাসই বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আবেদনকারীদের তথ্য ও কাগজপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে এবং সব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই ভিসা দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বেরিয়ে এসে প্রচুর বই পড়তে হবে, সামাজিক কর্মকাণ্ডে বেশি অংশ নিতে হবে এবং নিয়মিত ইংরেজি চর্চা করতে হবে। এমনকি ঘরে বসে অনলাইনে আয় করতে গেলেও ইংরেজি জানা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতারণা এড়াতে তিনি বলেন, এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য, অবাস্তব আশা ও ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে। তাই সব তথ্য ও প্রক্রিয়া ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে তিনি একটি অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সহজে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।



