ময়মনসিংহে এইচএসসির ফল ঘোষণার দিনেও ফাঁকা কলেজ ক্যাম্পাস, ঘরে বসেই ফল জানলেন শিক্ষার্থীরা

সারা দেশের মতো ময়মনসিংহেও শনিবার (৩১ অক্টোবর) নির্ধারিত সময়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ফল প্রকাশের দিনেও নগরীর কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে দেখা যায়নি শিক্ষার্থীদের চিরচেনা উৎসব আর উচ্ছ্বাস।
শনিবার সকাল ১১টায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়।
এ বছর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ১৮ জন ছাত্র এবং ১ হাজার ১১৯ জন ছাত্রী।
একসময় ফল প্রকাশের দিনে কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় জমত। ফল জানার অপেক্ষা, আনন্দ-উল্লাস আর কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার বিষাদ মিলে ক্যাম্পাসে তৈরি হতো আবেগঘন পরিবেশ।
এবারের চিত্র ছিল ভিন্ন। ফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নগরীর অধিকাংশ কলেজ ক্যাম্পাস ছিল প্রায় ফাঁকা।
দুপুর ১২টায় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে গিয়ে দেখা যায়, অধ্যক্ষ ও কয়েকজন শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এলেও ফল প্রকাশ ঘিরে উচ্ছ্বাসের পরিবেশ দেখা যায়নি।
নগরীর মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজেও ছিল একই চিত্র। দুপুর ১টার দিকে পুরো ক্যাম্পাস অনেকটাই নীরব ছিল। সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর কেউই এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নন; তাঁরা ফল প্রকাশের দিনে ক্যাম্পাসের আনন্দঘন পরিবেশ দেখতে এসেছিলেন বলে জানান।
আলমগীর মনসুর (মিন্টু) মেমোরিয়াল কলেজেও ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি কিংবা উৎসবের পরিবেশ চোখে পড়েনি।
কলেজগুলোর শিক্ষকেরা জানান, ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতায় শিক্ষার্থীরা এখন ঘরে বসেই ফল জানতে পারছেন। শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনের খুদে বার্তার মাধ্যমে ফলের পাশাপাশি বিস্তারিত নম্বরপত্রও সংগ্রহ করা যাচ্ছে। ফলে ফল জানতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে গেছে।
অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এই সুবিধাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, আগে ফলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপেক্ষা করতে হতো; দূর থেকে আসতে গিয়ে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিও পোহাতে হতো।
তবে ক্যাম্পাসের হারিয়ে যাওয়া উৎসবমুখর পরিবেশ নিয়ে আক্ষেপও রয়েছে। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের প্রবীণ শিক্ষক মুফিজুন্নুর খোকা বলেন, ডিজিটাল অগ্রগতি জীবনযাত্রা সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু বন্ধুদের কাঁধে হাত রেখে একসঙ্গে ফল দেখার মুহূর্ত আর সাফল্য-ব্যর্থতার আবেগ ভাগাভাগির সংস্কৃতি এখন অনেকটাই অতীত হয়ে গেছে।




