কুষ্টিয়ায় লংমার্চের সমাপনীতে জামায়াত আমির: সাত দফা না মানলে এক দফা অনিবার্য

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাত দফা দাবি মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না; না মানলে এক দফা অনিবার্য হয়ে উঠবে। তিনি বলেছেন, তাঁরা দলীয় দাবি নিয়ে আসেননি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছেন।
রাত ১২টার পর কুষ্টিয়ায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষার স্বার্থে সেই এক দফার ডাক দিতে তাঁরা বাধ্য হবেন।
জামায়াত আমির বলেন, ১ হাজার ৪০০ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদকে হটিয়ে নতুন বাংলাদেশ পাওয়া গেছে এবং তাঁরা সেই শহীদদের কথা বলেন। তবে আফসোসের বিষয়, সরকার সেই শহীদদের সম্মান করে না। তাঁর মতে, সম্মান করলে সরকার শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করত।
এর আগে শনিবার রাত ১১টায় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
পথসভায় জামায়াত আমির বলেন, এ দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনের একটিতে, গণভোটে, ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন। বর্তমান সরকারি দল এবং তাঁরা সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে নেওয়া হবে। কিন্তু সরকার তা মেনে নেয়নি বলেই তাঁর অভিযোগ।
তিনি বলেন, সরকারের একজন মুখপাত্র সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, জুলাই সনদ অন্তহীন প্রতারণার দলিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তারাই জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছেন এবং তারা গণভোট মানবেন না। কেন মানবেন না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি একটি প্রবাদ ব্যবহার করে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁদের সাতটি দফা স্পষ্ট। এর একটি দফাও দলীয় দফা নয়; প্রত্যেকটি দফা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার দফা।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, যখনই জনতার রায়কে অপমান ও অবজ্ঞা করা হয়েছে, তখন ইতিহাসের কঠিন পরিণতি তাদের বহন করতে হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁরা কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে লাভ হবে না।
একই লংমার্চ কর্মসূচি ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও সরকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার আট মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যা করেছিল, সেই জায়গায় ছাত্রদল-যুবদল বসেছে; শুধু নাম বদলেছে, চরিত্র একই। দ্রব্যমূল্য, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারি, সার, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার যুবসমাজের উদ্দেশে বলেন, কারও ছলনায় কান না দিতে এবং আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে বলে বৃহত্তর ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।




