কাগজের স্ট্র প্লাস্টিকের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে, বলছে দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষণা

কাগজের স্ট্রকে এত দিন প্লাস্টিকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সরকারি মূল্যায়নে উঠে এসেছে, দূষণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি হিসাবে কাগজের স্ট্র প্লাস্টিকের চেয়েও খারাপ ফল করতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জলবায়ু, জ্বালানি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই জীবনচক্র মূল্যায়নের (লাইফ সাইকেল অ্যাসেসমেন্ট) দায়িত্ব দিয়েছিল কোরিয়ান সোসাইটি ফর লাইফ সাইকেল অ্যাসেসমেন্টকে।
গবেষকেরা কাগজ, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন একবার ব্যবহারযোগ্য স্ট্র উৎপাদন থেকে ফেলে দেওয়া পর্যন্ত মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা তুলনা করেছেন।
মূল্যায়নে চার ধরনের স্ট্র পরীক্ষা করা হয়: কাগজ, প্রচলিত প্লাস্টিক, জৈব-পচনশীল প্লাস্টিক এবং বায়ো-ভিত্তিক পলিথিন (বায়ো-পিই)।
ফলাফলে দেখা গেছে, উৎপাদন ও নিষ্পত্তির সময় তৈরি দূষণ থেকে ক্যানসার-সংক্রান্ত ক্ষতির একটি মডেলভিত্তিক হিসাবে কাগজের স্ট্রের স্কোর প্রচলিত প্লাস্টিক স্ট্রের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৩ গুণ বেশি।
তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই স্কোর উৎপাদন থেকে নিষ্পত্তি পর্যন্ত দূষণের সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব; স্ট্র দিয়ে পান করার সময় রাসায়নিক সংস্পর্শ বা ক্যানসারের ঝুঁকির হিসাব এটি নয়।
মোট ১৬টি পরিবেশগত প্রভাবের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হয়। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্জ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী ধরে নেওয়া হয়, ফেলে দেওয়া স্ট্রের প্রায় ৭৪ শতাংশ পোড়ানো হয় এবং ২৬ শতাংশ যায় ল্যান্ডফিলে।
১৬টি বিভাগের মধ্যে ১০টিতেই প্রচলিত প্লাস্টিক স্ট্র সবচেয়ে ভালো ফল করেছে। তবে কোনো এক ধরনের স্ট্র সব বিভাগে এগিয়ে থাকতে পারেনি।
গবেষণায় স্ট্র থেকে পানীয়তে রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে কি না, তা মাপা হয়নি এবং স্ট্র ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্যের ফলাফলও মূল্যায়ন করা হয়নি।
দ্য কোরিয়া হেরাল্ডের খবর অনুযায়ী, গবেষকেরা পরামর্শ দিয়েছেন, দোকানগুলো যেন কেবল গ্রাহক চাইলেই একবার ব্যবহারযোগ্য স্ট্র দেয়।
প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর আইনপ্রণেতা কিম উই-সাং প্লাস্টিক স্ট্রের ওপর বিধিনিষেধের সমালোচনা করে বলেছেন, বিকল্পগুলো প্রতিশ্রুত পরিবেশগত সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কাগজের স্ট্রের সমালোচক। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যাতে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে কাগজের স্ট্র কেনা ও সরবরাহ বন্ধ করতে এবং এর ব্যবহার শেষ করতে জাতীয় কৌশল তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, ‘মুখে স্ট্র গলে যাওয়ায় আমি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম।’
এর আগে ২০২৩ সালে অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৯টি স্ট্র ব্র্যান্ডের ২৭টিতেই পিএফএএস বা ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ পাওয়া গিয়েছিল, যার বেশির ভাগই ছিল কাগজের স্ট্র। গবেষকেরা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, নতুন এই ফলাফল প্রমাণ করে না যে কাগজের স্ট্র দিয়ে পান করলে কারও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।




