জ্বালানি সংকটে মাঝপথে থামল বিশ্বভ্রমণের জাহাজ, কম্বোডিয়ায় নামতে হলো ২০৩ বাসিন্দাকে

সারা জীবন সমুদ্রে কাটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করা একটি আবাসিক প্রমোদজাহাজের বিশ্বভ্রমণ মাঝপথে থেমে গেছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভ্রমণ চালিয়ে যাওয়া আর্থিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস।
কম্বোডিয়ার বন্দরনগরী সিহানুকভিলে জাহাজ থেকে নামতে হয়েছে ২০৩ জন বাসিন্দাকে। ভিলা ভি ওডিসি নামের জাহাজটি দুই বছর আগে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট থেকে সাড়ে তিন বছরের বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান মিকায়েল পেটারসন বিজনেস ইনসাইডারকে বলেছেন, ‘আমার খুব খারাপ লাগছে। তারা সিদ্ধান্তের জন্য আমার ওপরই ভরসা করছেন, আর আমি বাসিন্দাদের জন্য একটি সমাধানের পক্ষে সবকিছু করছি। এই গল্পে আমিই খলনায়ক।’
জাহাজের ক্যাপ্টেন এমানুয়েলে জুডিস বৃহস্পতিবার জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে একটি জেনারেটর, চিলার ও অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী তিনি বলেন, এসব বন্ধ রাখলে বাসিন্দাদের অস্বস্তি হতো, তাই জ্বালানি পরিস্থিতি সংকটজনক হওয়ায় বাসিন্দাদের জাহাজ থেকে নেমে যেতে অনুরোধ করা হয়। পুরো ঘটনাটিকে তিনি ‘সত্যিই বেদনাদায়ক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
নোটিশের সময় নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ক্যাপ্টেন জুডিসের দাবি, বাসিন্দাদের ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যাত্রীরা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেছেন, তাঁরা মাত্র সাত ঘণ্টার নোটিশ পেয়েছিলেন এবং নিজেদের থাকার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হয়েছে।
জুডিস এই পরিস্থিতির জন্য জ্বালানির উচ্চ দামকে দায়ী করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়ী কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভিলা ভি রেসিডেন্সেসের ‘এন্ডলেস হরাইজনস’ কর্মসূচিতে একবারের অর্থ পরিশোধে জাহাজে আজীবন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ফক্স বিজনেসের ২০২৪ সালের মে মাসের খবর অনুযায়ী, একক কেবিনের জন্য এই মূল্য ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলার এবং যৌথ কেবিনের জন্য ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলার। কিছু বাসিন্দা এই সুযোগের জন্য কয়েক লাখ ডলার খরচ করেছিলেন।
ওয়াইয়োমিংয়ের অবসরপ্রাপ্ত দম্পতি পল ও লিন মন্টোয়া এপিকে বলেছেন, প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ পরপর তাঁদের কাছে জ্বালানিসহ নানা খরচের টাকা চাওয়া হতো। লিন মন্টোয়া বলেন, ‘আমাদের আশা ছিল, কিন্তু তারা ক্রমেই আরও গভীর গর্তে ডুবে যাচ্ছিল।’
অবসরপ্রাপ্ত বেঞ্জামিন শাটজ ওডিসিকে নিজের স্থায়ী বাড়ি বানাতে চেয়েছিলেন। জাহাজ ছাড়তে বাধ্য হয়ে তিনি সিবিএস নিউজকে বলেন, তিনি এখনো অস্বীকার ও ধাক্কার মধ্যে আছেন এবং মর্মাহত। তিনি বলেন, ‘এখন এমন মানুষ আছেন, যাঁরা গৃহহীন এবং যাঁদের হাতে খুব কম টাকা আছে; তাঁরা জানেন না তাঁরা কী করবেন।’
প্রতিষ্ঠানটি ওডিসিতে জীবনযাপনকে ঐতিহ্যগত অবসরের বিকল্প হিসেবে বাজারজাত করেছিল, বিশেষ করে যেসব অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন, তাঁদের কাছে। পেটারসন একসময় বলেছিলেন, ‘গড়পড়তা একটি বাড়ির দামের চেয়েও কমে আপনি সারা জীবনের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে পারেন।’
এই সপ্তাহের শুরুতে ভ্রমণ স্থগিত হওয়ার পর জাহাজের ২০৩ জন বাসিন্দা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।




