কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘৩০(ইশ) অ্যাওয়ার্ডস’ পেলেন বাংলাদেশি স্থপতি তাসবীর শাতিল
যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাপূর্ণ ‘৩০(ইশ) অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ পেয়েছেন বাংলাদেশি স্থপতি ও নগর নকশাবিদ জিন্নুরাইন তাসবীর শাতিল। পরিবেশবান্ধব নগর নকশা, টেকসই নগর উন্নয়ন এবং সামাজিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকটিভিস্ট’ বিভাগে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা পেশাগত সাফল্য, উদ্ভাবন, গবেষণা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্বে ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখছেন, তাদের স্বীকৃতি দিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এবারের পঞ্চম আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাথমিকভাবে ২০০ জন সাবেক শিক্ষার্থী মনোনীত হন। সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ২০ জনের একজন হয়েছেন তাসবীর শাতিল।
বাংলাদেশে পেশাগত জীবন শুরু করা তাসবীর শাতিলের কাজ বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত। স্থাপত্য, নগর নকশা, ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচার এবং পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়নে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মাননা পেয়েছেন।
তাসবীর শাতিলের পেশাগত জীবনের শুরু বাংলাদেশের স্থাপত্য ও নগর নকশা প্রতিষ্ঠান ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেডে। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করার সময় স্থাপত্য, নগর পরিসরের পরিকল্পনা ও নকশা এবং উন্মুক্ত স্থানগুলোর সৃজনশীল রূপান্তর নিয়ে কাজ করেন তিনি। মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এসব কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তাসবীর শাতিল। কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক নগর পরিকল্পনা ও নকশা বিষয়ে ডিস্টিংশনসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। একই সঙ্গে নিজ শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ সামগ্রিক একাডেমিক ফলাফল অর্জনের কৃতিত্বও রয়েছে তার।
যুক্তরাজ্যে পেশাগত জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন ও নকশা প্রকল্পে কাজ করেছেন তাসবীর। বাংলাদেশে তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত একাধিক স্থাপত্য, নগর নকশা ও জনপরিসর উন্নয়ন প্রকল্পও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মট ম্যাকডোনাল্ডের লন্ডনের গ্লোবাল হেডকোয়ার্টারে সিটিজ স্টুডিওর স্থাপত্য ও নগর বিভাগে নগর নকশাবিদ হিসেবে কাজ করছেন তাসবীর শাতিল। সেখানে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক নগর উন্নয়ন প্রকল্পে অবদান রাখছেন তিনি।
পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে তাসবীর শাতিল বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমার কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি বাংলাদেশ থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ পেশাগত যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দেশ বদলেছে, কাজের পরিবেশ বদলেছে, কিন্তু আমার লক্ষ্য বদলায়নি। আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি, স্থাপত্য ও নগর নকশার মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সুন্দর, বাসযোগ্য ও টেকসই করে তোলা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘করোনা মহামারির পর বাংলাদেশে গড়ে তোলা পেশাগত জীবন ও পরিবারকে পেছনে রেখে যুক্তরাজ্যে নতুন করে পথচলা শুরু করা সহজ ছিল না। নানা অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসিনি। এই সম্মাননা সেই দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি।’
তাসবীর শাতিল মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের এই সময়ে নগর উন্নয়ন ও নকশায় মানবিকতা, পরিবেশগত দায়িত্ববোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

