মজুরি ৩০ হাজার করার দাবিতে সাভার-আশুলিয়া-মিরপুর-গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, বহু কারখানায় ছুটি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল সাভার, আশুলিয়া, মিরপুর ও গাজীপুরে হঠাৎ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। এসব এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বিক্ষোভে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মহাসড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আরেক প্রতিবেদনে শনিবারের বিক্ষোভের পর ৮০টি কারখানায় ছুটির কথা বলা হয়েছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর ও সাভার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা হয়। এ সময় ব্যস্ত সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং জনভোগান্তি বাড়ে।
আকস্মিক এই বিশৃঙ্খলার পেছনে শুধু সাময়িক দাবি-দাওয়াই নয়, এর পাশাপাশি বাজারদরের সঙ্গে মজুরির সামঞ্জস্যহীনতা এবং বিভিন্ন গ্রুপের উসকানি রয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, হঠাৎ কেন এই শ্রমিক অসন্তোষ—এর পেছনে কি কেবল মজুরি বৃদ্ধির দাবি, নাকি অন্য কোনো এজেন্ডা আছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে আজ (রোববার) মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী। সেই বৈঠকের পরও তিনি একই কথা বলেন—রবিবার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে।
শ্রমিকদের মূল দাবি ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করা। বাজারদরের সঙ্গে বর্তমান মজুরির সামঞ্জস্য নেই—এই বিষয়টিকে অসন্তোষের অন্যতম কারণ হিসেবে খাতসংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
বিক্ষোভের কারণে সাভার, আশুলিয়া, মিরপুর ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। মহাসড়ক অবরোধে যান চলাচল থমকে গিয়ে আশপাশের এলাকায়ও ভোগান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
আজ রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হলে শ্রমিকদের আন্দোলন কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর থাকবে শিল্পাঞ্চলগুলোর।




