গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শিল্পাঞ্চলে বিজিবি মোতায়েন, থাকবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত

গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শিল্পাঞ্চলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে জেলার কোনাবাড়ী, সফিপুর, কালিয়াকৈর ও আশপাশের এলাকায় পৌঁছেছেন বিজিবি সদস্যরা।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রবিবার সকাল থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে এলাকায় পৌঁছেছেন। আপাতত পাঁচ প্লাটুন মোতায়েনের কথা রয়েছে, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী বিজিবির সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, কোনাবাড়ী, সফিপুর, কালিয়াকৈরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন বিজিবি সদস্যরা। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বিজিবি সড়কে থাকবে।
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া এ অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায় পুলিশ। তবে শ্রমিকরা অবরোধ অব্যাহত রাখলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক দফা টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের একটি গাড়িসহ অন্তত ১৫-১৬টি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় শ্রমিক ও পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার ও নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।




