লক্ষ্মীপুরে পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেনি, এক কলেজে তিন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

লক্ষ্মীপুরে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান হলো ফজুমিয়ার হাট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দিন আলোকিত কলেজ, তোরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দিন আলোকিত কলেজ। এই কলেজ থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। কলেজটিতে শিক্ষকের সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে—এক শিক্ষক বলছেন পাঁচজন, আরেকজনের দাবি সাতজন। অর্থাৎ সাতজন শিক্ষক থাকলেও তিন শিক্ষার্থীর কাউকেই পাস করানো সম্ভব হয়নি।
কলেজটি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের ফরাশগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত। এটি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখনো পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়নি বলে জানা গেছে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও হাতেগোনা। এবারই প্রথম এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে কলেজটি। পরীক্ষার্থী ছিলেন মাত্র তিনজন, সবাই নারী।
কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রকৌশলী আরিফ চৌধুরী শুভ। তিনি ঢাকায় সমাজসেবা অধিদপ্তরে কর্মরত থেকেও কলেজটি পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। ফলাফলের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে কলেজ মাঠে অবস্থান করে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
কলেজের শিক্ষক নোমান ও মাহিনুর জানান, প্রতিষ্ঠানটি নতুন হওয়ায় এবার মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কম ছিল। তাঁদের ভাষ্য, শুধু সরকার বা শিক্ষকদের চেষ্টা থাকলেই হবে না, শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় আগ্রহী হতে হবে। শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পরিবর্তে টিকটক ও মোবাইল ফোনে বেশি সময় ব্যস্ত থাকতেন, এ কারণেই ফলাফল খারাপ হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল আসবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
শিক্ষকের সংখ্যা নিয়ে দুই শিক্ষকের বক্তব্যে গরমিলও ধরা পড়েছে। শিক্ষক নোমান কলেজে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন বলে দাবি করলেও তাঁর পাশে থাকা আরেক শিক্ষক শাহিনুর সাতজনের কথা বলেন।
এদিকে একই গ্রামের আশরাফুল শাহাদাত নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কলেজটিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। তাঁর পোস্টে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারী এবং একই পরিবারের তিন শিক্ষক থাকার কথা উল্লেখ করে তিন শিক্ষার্থীর কাউকেই পাস করাতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মেজবা উল আলম ভূঁইয়া বলেন, কুশাখালীর কলেজটির বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন, আরও বিস্তারিত জানার সুযোগ রয়েছে। কলেজটি নতুন হলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।
শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হবে। পরে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



