নেতানিয়াহুকে হটাতে ইহুদি-আরব জোট সরকারের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে হটাতে দেশটির বিরোধী দলগুলোকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করার আহ্বান জানিয়ে তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এটিই হয়তো দেশটিতে ‘প্রকৃত পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একজন ‘বড় চতুর রাজনীতিবিদ’।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন এবং বিরোধীদলীয় নেতা গাডি এইসেনকোটের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। ১২০ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই একা অর্জন করতে পারেনি।
অন্যদিকে ইসরায়েলের তিনটি আরব-নেতৃত্বাধীন দল নির্বাচনে দারুণ সাফল্য দেখিয়ে মোট ১৯টি আসন জিতেছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আরব দলগুলোর জোটে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ ভোট দিয়েছেন, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেশি।
প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাডি এইসেনকোট এর আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে হিসাব বলছে, তাঁর দল আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করলে তা অনায়াসেই ৬৭ আসনের স্বস্তিদায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে। যদিও ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের কাছে আরবদের সঙ্গে হাত মেলানো অত্যন্ত বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
রামাল্লা থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা নূর ওদেহ জানান, ‘মানুষ সত্যিই চায় পরিবর্তনের এই ভোটটি সফল হোক এবং তাদের বিশ্বাস, গাডি এইসেনকোটসহ অন্যান্য ইহুদি-ইসরায়েলি নেতাদের এই জনমতের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত।’
এদিকে শনিবারের বিক্ষোভের সময় নেতানিয়াহুর সমর্থকরাও পাল্টা বিক্ষোভ নিয়ে উপস্থিত হন। তাঁরা স্লোগান দিয়ে দাবি জানান, ‘ইসরায়েলের এমন কোনো সরকার থাকা উচিত নয়, যার পেছনে তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সমর্থন রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে ‘কারচুপি’ ও কাতার থেকে তহবিল নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। কাতার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে একে অপপ্রচার বলে আখ্যায়িত করেছে।
আল জাজিরার সংবাদদাতা নূর ওদেহ আরও জানান, ইসরায়েলি উগ্র-ডানপন্থি মহল ফিলিস্তিনি ইসরায়েলিদের এই ঐতিহাসিক ভোটদানকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করছে এবং একে গত ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে তুলনা করছে। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ভোট ও কণ্ঠস্বর বর্তমানে আক্রমণের মুখে রয়েছে, কারণ এইসেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তার চাবিকাঠি এখন তাদের হাতেই রয়েছে।


