নির্বাচনপ্রধানের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিরোধীদের মহা মিছিল, সমাবেশস্থল ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে রোববার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর পূর্বনির্ধারিত মহা মিছিল ও সমাবেশকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। লাঠি ও ঢাল হাতে নিরাপত্তাকর্মীরা দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ যান নিয়ে পরিকল্পিত বিক্ষোভস্থল ঘিরে রেখেছেন। ভোটার তালিকার বিতর্কিত সংশোধন নিয়ে এই দাবি উঠেছে।
বিরোধী পক্ষ বলছে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে মধ্য দিল্লি থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিল হবে; রামলীলা ময়দানই তাদের বিক্ষোভ সমাবেশের নির্ধারিত স্থান। বিরোধীদের প্রত্যাশা, এই মিছিলে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেবেন এবং তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং তরুণ-নেতৃত্বাধীন ককরোচ জান্তা পার্টি গত মাস থেকে প্রায় প্রতিদিন বিক্ষোভ করে আসছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার সংশোধন বিজেপির পক্ষে সুবিধাজনক করা হয়েছে।
এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় গত সেপ্টেম্বরে। তখন দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা প্রতিবেদন প্রকাশ করে যে জ্ঞানেশ কুমারের দুই উপ-কমিশনার ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আপত্তি তুলেছিলেন।
গত বছর শুরু হওয়া এই সংশোধনে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ গেছে। এর মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ মারা গেছেন, ৬ কোটি ৩০ লাখ অন্যত্র চলে গেছেন এবং ৩ কোটি মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে মুসলিম ভোটার ও অন্যান্য সংখ্যালঘুরা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি, যারা হিন্দু জাতীয়তাবাদী ক্ষমতাসীন দলকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশন কোনো দলকে সুবিধা দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেছে, ভুলক্রমে বাদ পড়া ভোটাররা পুনরায় নাম তুলতে পারবেন। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বীরা বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের এই বিক্ষোভ এবং বিরোধীদের প্রতি বাড়তে থাকা সমর্থন ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোদির জন্য সবচেয়ে খারাপ সংকট তৈরি করেছে। তবে তাঁর সরকার এখনো স্থিতিশীল রয়েছে এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালের আগে হওয়ার কথা নয়।
রোববারের মিছিলের আগে কর্তৃপক্ষ যানবাহন চলাচলে বিকল্প পথের সতর্কতা জারি করেছিল। সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের দৃশ্যে দেখা গেছে, সমাবেশস্থলের বাইরে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ যান এবং লাঠি-ঢাল হাতে ডজনখানেক নিরাপত্তাকর্মী অবস্থান করছেন; সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সমাবেশস্থলে ‘বড় জমায়েত’ প্রত্যাশিত এবং ‘প্রয়োজন অনুযায়ী’ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথ কার্যকর করা হবে।
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা রোহিত রাজবীর এএনআইকে বলেন, ‘মানুষ সমাবেশে অংশ নিতে আসতে শুরু করেছেন... আমরা সমাবেশস্থলে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যে মিছিল হবে, তার পথের জন্যও ব্যবস্থা পরিকল্পনা করা হয়েছে।’


