সিরিজ নিশ্চিতের পরও সূর্যবংশীকে না খেলানোয় ক্ষুব্ধ কাইফ, প্রশ্ন তুললেন দল নির্বাচন নিয়ে

ভারতের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিয়মিত সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের সাবেক ব্যাটার মোহাম্মদ কাইফ। তাঁর মতে, সিরিজ আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরও চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে বৈভবকে খেলানো উচিত ছিল।
বৈভবকে ভারতীয় ক্রিকেটের বিস্ময়বালক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে—বয়স ও আচরণে এখনো বাচ্চাদের কাতারে পড়লেও ক্রিকেটীয় মস্তিষ্কে তিনি একজন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান। এই প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে নিয়ে জাতীয় দলের পরিকল্পনা পরিষ্কার: তরুণ এই ব্যাটারকে ধীরে ধীরে তৈরি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলার সুযোগ পান বৈভব। চোটের কারণে ঈশান কিষান ছিটকে যাওয়ায় একাদশে জায়গা হয় তাঁর। তৃতীয় ম্যাচে অভিষেক শর্মার সঙ্গে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ছয় ওভারে ১০০ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটার। তবে ঈশান সুস্থ হয়ে ফিরলে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে একাদশ থেকে বাদ পড়েন বৈভব। সেই ম্যাচটি অবশ্য হেরে যায় ভারত।
কাইফের মতে, সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর বৈভবকে আরও একটি ম্যাচে সুযোগ দেওয়া যেত। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, ‘এটা ওই (বৈভব সূর্যবংশী) খেলোয়াড়ের জন্য ভালো খবর নয়। সে ভবিষ্যতের সুপারস্টার হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে সে ও অভিষেক শর্মা ছয় ওভারে ১০০ রান করেছে। এমন একজন খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাস তৈরির জন্য নিয়মিত সুযোগ পাওয়া জরুরি। এমনকি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’
ভারতের দল নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই ক্রিকেটার। তাঁর মতে, নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করলে বৈভবকেও একইভাবে দেখা উচিত ছিল। কাইফ বলেন, ‘এই ম্যাচে তাকে খেলানোর সুযোগ ছিল। সিরিজ তো আগেই জিতে গিয়েছিল ভারত। সিরিজের পরিস্থিতি বিবেচনা করা দরকার। একদিকে ভুবনেশ্বরকে বাইরে রেখে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বৈভবও নতুন, তাহলে তাকে একই সুযোগ দেওয়া হবে না কেন? মায়াঙ্ক যাদব ও প্রিন্স যাদবকে তৈরি করা হচ্ছে। একই যুক্তিতে বৈভবেরও খেলা উচিত ছিল। সুযোগ দেওয়ার জন্য পরিস্থিতি যথেষ্ট অনুকূল ছিল।’
এমন পরিস্থিতিতে তরুণ এই ক্রিকেটারকে এক ম্যাচ পরই বসিয়ে দেওয়া তাঁর আত্মবিশ্বাসের জন্য ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন কাইফ।
ঈশান কিষানের ফেরা নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন কাইফ। তাঁর মতে, সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর ঈশানকে বিশ্রাম দিয়ে বৈভবকে খেলানো যেত। ঈশান চোট কাটিয়ে ফিরেই উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। কাইফের ধারণা, হয়তো পুরোপুরি ফিট না থাকায় তাঁকে বেশি দৌড়াতে হয়নি, এমন বিবেচনা থেকেই উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। যদিও বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।
কাইফের ভাষায়, ‘যদি ঈশানের সামান্য চোট বা অস্বস্তি থেকেও থাকে, তাহলে তাকে বিশ্রাম দেওয়া যেত। এটা তো বাঁচা-মরার ম্যাচ ছিল না। ভারত তখন সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।’



