শেষ মুহূর্তে সিলভার গোলে বায়ার্নের জয় কেড়ে নিল ডর্টমুন্ড, ড্রয়ে জমল বুন্দেসলিগা

শেষ মুহূর্তের গোলে বায়ার্ন মিউনিখের জয় কেড়ে নিয়ে ২-২ গোলের ড্র আদায় করেছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। ৮৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা পর্তুগিজ স্ট্রাইকার ফাবিও সিলভার গোলেই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুই দল। বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মধ্যকার এই লড়াই ‘জার্মান ক্লাসিকো’ নামে পরিচিত, আর এই ক্লাসিকোতে জয়ী না হয়েও শেষ হাসি ডর্টমুন্ডের—দুইবার পিছিয়ে পড়েও তারা ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুন্দেসলিগার অষ্টম রাউন্ডের ম্যাচে কনরাড লাইমার ও দায়ো উপামেকানোর গোলে এগিয়ে ছিল স্বাগতিক বায়ার্ন। ডর্টমুন্ডের হয়ে সমতা ফেরান সেরহু গিরাসি ও ফাবিও সিলভা। ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি ছিল হ্যারি কেইনের পেনাল্টি মিস।
ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল ডর্টমুন্ড। জোবে বেলিংহ্যামের শট জালে গেলেও ভিএআরের সহায়তায় সেটি বাতিল হয়। গোলরক্ষক ইয়োনাস উরবিগের ওপর কার্নি চুকুয়েমেকার ফাউলকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। এর আগে দশম মিনিটে মাইকেল অলিসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৩৮তম মিনিটে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন লাইমার। অলিসের পাস থেকে তাঁর প্রথম শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। তবে ফিরতি বল পেয়ে আর ভুল করেননি অস্ট্রিয়ান মিডফিল্ডার। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বায়ার্ন। ৫৬তম মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু স্পটকিক থেকে হ্যারি কেইনের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে দেরি করেনি ডর্টমুন্ড। ৬০তম মিনিটে কার্নি চুকুয়েমেকার পাস থেকে নিচু শটে সমতা ফেরান গিরাসি।
তবে চার মিনিটের ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় বায়ার্ন। ৬৬তম মিনিটে কেইনের হেড থেকে বল পেয়ে কাছ থেকে জালে পাঠান উপামেকানো। এরপর ৭৫তম মিনিটে আবারও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন কেইন, কিন্তু তাঁর শট পোস্টে লাগে।
শেষ দিকে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ডর্টমুন্ড। ৮৯তম মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে বায়ার্নের রক্ষণ বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেনি। সেই সুযোগে কোনাকুনি শটে উরবিগকে পরাস্ত করেন বদলি হিসেবে নামা ফাবিও সিলভা। তাতে ২-২ সমতায় ফেরে ডর্টমুন্ড।
যোগ করা সময়েও জয়ের সুযোগ পেয়েছিল বায়ার্ন। লেনার্ট কার্লের দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
অসুস্থতার কারণে দলের সঙ্গে ছিলেন না বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। তাঁর অনুপস্থিতিতে ডাগআউটে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী অ্যারন ড্যাঙ্কস। ম্যাচে চোটের কারণে ইসমায়েল সাইবারি ও সার্জ নাব্রিকে তুলে নিতে বাধ্য হয় বায়ার্ন। মাইকেল অলিসেরও চোটের সমস্যা দেখা দেয়।
এই ড্রয়ের পরও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বুন্দেসলিগার শীর্ষে রয়েছে বায়ার্ন। আট ম্যাচে দুই দলেরই পয়েন্ট ১৮। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় এক নম্বর জায়গাটি ধরে রেখেছে মিউনিখের দলটি।



