কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে বহিরাগতদের দখল, খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বহিরাগতদের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত এই মাঠে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ও খেলাধুলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মাঠের বড় অংশজুড়ে বহিরাগতরা খেলাধুলা করায় অনেক শিক্ষার্থী নিজেরা খেলার সুযোগ না পেয়ে দর্শক হয়ে বসে থাকছেন। এ নিয়ে কয়েক দফায় বহিরাগতদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাক্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।
বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক দল ওই দিনগুলোতে মাঠে খেলতে আসে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় মাঠে বহিরাগতদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে, যা বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। মাঠে প্রায় শতাধিক মানুষকে খেলাধুলা করতে দেখা যায়, যাদের অধিকাংশই বহিরাগত। মাঠের মূল অংশে বহিরাগতরা ফুটবল খেলায় ব্যস্ত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে এক কোণে খেলতে দেখা যায়, আবার কেউ কেউ সুযোগ না পেয়ে দর্শক সারিতে বসে সময় কাটান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশে মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠে মাদক সেবন ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেও নিয়মিত খেলাধুলা চলায় মাঠের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে এবং ক্রিকেট পিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রকিবুল ইসলাম জিসান বলেন, ক্যাম্পাসে নতুন সীমানা প্রাচীর ও সতর্কতামূলক নোটিশ বোর্ড থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সেন্ট্রাল ফিল্ডে নিয়মিত মাদকের আসর ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না এবং ক্রীড়াপ্রেমী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশায় ভুগছে।
জিসান আরও বলেন, এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করা হলেও তারা নীরব। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় মাঠে খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে, বহিরাগতদের প্রবেশ, মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে এবং প্রবেশদ্বারগুলোতে কড়া নজরদারি ও প্রক্টোরিয়াল টিমের নিয়মিত টহল নিশ্চিত করতে হবে।
কুবি স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি এম এইচ পিয়াস বলেন, খেলার মাঠে বিশেষ করে রাতে এবং শুক্রবারের ছুটির দিনগুলোতে বহিরাগতরা খেলতে আসে। কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক দল এসে মাঠ দখল করে খেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায় না। বৃষ্টি চলাকালীনও খেলা অব্যাহত থাকায় মাঠে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং ক্রিকেট পিচটি মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
পিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, মাঠের উঁচু-নিচু অংশ সমতল করা, নিয়মিত ঘাস কাটা এবং সার্বিক পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করা দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল আলম বলেন, বহিরাগতদের নিয়মিত মাঠে খেলতে আসায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অনেক সময় তাদের মাঠের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসন ও প্রক্টোরিয়াল বডির দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এবং ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলেও তিনি বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বহিরাগতরা প্রতিনিয়ত মাঠে এসে খেলাধুলা করছে; তারা কেবল আশপাশের এলাকার নয়, শহর থেকেও অনেকে আসে। এসব বহিরাগত মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ না করে মূলত হলের গেট, বিশেষ করে দত্ত হল ও বিজয়-২৪ হলের গেট ব্যবহার করে। তাই হলের গেটগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
প্রক্টর আরও বলেন, কেন্দ্রীয় মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য কিছু নতুন নির্দেশনা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও বিষয়টির প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

