মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ডেমোক্র্যাটদের হয়ে মাঠে ওবামা, ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের হয়ে একের পর এক জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এই নির্বাচনেই ঠিক হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য কার হাতে থাকবে।
মিশিগানে সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের পক্ষে ডেট্রয়েটে এক সমাবেশে ওবামা স্বীকার করেন, এল-সাইয়েদ তাঁর প্রেসিডেন্সির কিছু দিকের সমালোচনা করেছেন। হেসে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আবদুল আমাদের প্রশাসনের কিছু কাজের সঙ্গে একমত ছিল না। জানেন, আর কে আমার সবকিছুর সঙ্গে একমত নয়? মিশেল ওবামা।” এতে ভিড় হাসিতে ফেটে পড়ে।
জর্জিয়ার আটলান্টার উপকণ্ঠে একটি অ্যারেনায় সমাবেশে ভিড় তাঁর ২০০৮ সালের প্রচারণার বিখ্যাত স্লোগান “ইয়েস, উই ক্যান!” ধ্বনি তোলে। সেখানে ওবামা বলেন, “এই নির্বাচনই তাঁকে নিয়ন্ত্রণে রাখার শেষ ও সেরা সুযোগ—এই প্রশাসনের নির্বুদ্ধিতার কিছুটা হলেও ঠেকানোর সুযোগ। এটি ব্যবস্থার সার্কিট-ব্রেকার, আর আমাদের সেটি চালু করতে হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ওবামা ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে নির্মমভাবে বিদ্রূপ করেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন।
দলীয় কৌশলবিদদের কাছে প্রচারণার শেষ পর্যায়ে ওবামাকে মাঠে নামানো ছিল হিসাবি ঝুঁকি। ট্রাম্প যেখানে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান ঘাঁটিতে অভিযোগভরা সমাবেশ করেছেন, ওবামা সেখানে শেষ সপ্তাহগুলোর আগ পর্যন্ত বাছাই করা উপস্থিতি ধরে রেখেছিলেন, যাতে নতুন প্রজন্মের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা আগে নিজেদের পরিচিতি গড়তে পারেন।
ওবামার হোয়াইট হাউসের সাবেক ভাষণ-রচয়িতা ডেভিড লিট বলেন, “আপনারা যা দেখছেন, তা হলো তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে উঠে আসা নতুন প্রজন্মের ডেমোক্র্যাট নেতাদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন—প্রথম দিন থেকে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করেননি। তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভোটার টানার ক্ষমতা এখনো এমন, যা কাছাকাছি লড়াইয়ের কোনো প্রার্থী অবশ্যই কাজে লাগাতে পারেন—বিশেষ করে তরুণ ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ক্ষেত্রে।”
লিট আরও বলেন, আজকের দিনে মনোযোগ আকর্ষণ করা কঠিন, আর ওবামা সেটি পেতে পারদর্শী। তাঁর ভাষায়, ওবামা এখনো ট্রাম্পের মাথায় “ভাড়া ছাড়াই” বাস করেন; ট্রাম্প প্রচারণায় নিজের অর্জনের কথা বলার বদলে ওবামার একটি বাক্যে উত্তেজিত হয়ে বলরুম সংস্কার নিয়ে পুরোনো সিদ্ধান্তের পুনর্বিচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
বিতর্কের সেই বাক্যটি এসেছিল ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডের এক সমাবেশে, যেখানে ওবামা মন্তব্য করেছিলেন, ট্রাম্পের সোনালি কারুকাজের সংস্কারে হোয়াইট হাউসকে দেখাচ্ছে যেন “সাদ্দাম হুসেইন একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন”।
এই মন্তব্যে ডানপন্থী গণমাধ্যমে ছোটখাটো সাংস্কৃতিক যুদ্ধ শুরু হয়। জবাবে ট্রাম্প লেটুস পাতার ভঙ্গিতে হাত নেড়ে ওবামাকে অহংকারী বলে অভিযোগ করেন এবং বলেন, ওবামা যা খান, প্রতিটি লেটুস পাতাই নিখুঁত হতে হয়। তিনি নিজের সোনালি হোয়াইট হাউস সজ্জার পক্ষে সাফাই দেন এবং দাবি করেন, ওবামা নির্বাহী প্রাসাদটি “জীর্ণ” অবস্থায় রেখে গেছেন।
ট্রাম্পের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, ধনী সাবেক হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক, ওয়াশিংটনে একটি চিজকেক ফ্যাক্টরির বাইরে ছবি তোলার আয়োজন পর্যন্ত করেন এবং অভিজাততন্ত্রের অভিযোগ খণ্ডনের চেষ্টায় সেখানে ফ্রেঞ্চ-ডিপ চিজবার্গার অর্ডার করেন।
৬৫ বছর বয়সী ওবামা প্রায় এক দশক আগে দায়িত্ব ছেড়েছেন। তবু শেষ মুহূর্তের এই প্রচারণায় তাঁর উপস্থিতি ডেমোক্র্যাট শিবিরে, বিশেষ করে দলটির প্রগতিশীল অংশের কাছে, ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।




