সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় আত্মসমর্পণ করলেন ৬৫ চরমপন্থী, পুনর্বাসনের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী ও সর্বহারা সদস্য অপরাধজগত ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে পাবনার ৪৫ জন, রাজবাড়ীর ১৩ জন এবং সিরাজগঞ্জের ৭ জন রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারীদের আইনি পরামর্শ, পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বলেছেন, ‘আত্মসমর্পণকারীদের আইনি পরামর্শ দেওয়া হবে। তারা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী এসআরবির সদস্যদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্ধকার জগতে থাকা অন্য ব্যক্তিদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে একটি প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। ৫ আগস্টের পর লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
আত্মসমর্পণ করতে আসা মো. মাজেদ আলী মুন্সী বলেছেন, ‘অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে পেরে আজ খুবই ভালো লাগছে।’
পাবনার বাবু মিয়া ওরফে আইনুল হোসেন বলেন, ‘ভুল পথে চলতে চলতে অনেক কিছু হারিয়েছি। এভাবে ১৫ বছর কেটে গেছে। আমার সাথী ভাইয়েরা অনেক সময় বলতেন, অনেক দিন ধরে বাড়িতে যাওয়া হয় না।’
আলমগীর নামের আরেক আত্মসমর্পণকারী জানান, তারা একসময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না পেয়ে তাদের অনেকেই দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তেন।
একসময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এসব জেলার চরমপন্থী সংগঠনের অনেক সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। এতে এলাকাগুলোতে চরমপন্থী তৎপরতা অনেকটাই কমেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার আরও ৬৫ জন চরমপন্থী ও সর্বহারা সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারি সহযোগিতা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা গেলে তাদের পাশাপাশি পরিবারগুলোও নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআরবি ফোর্স-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবির মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) ও যুগ্ম সচিব শাহানা আখতার জাহান।




