সৌদি আরব ফেরত দিল হজযাত্রীদের কেটে রাখা ১০ কোটি টাকা, ২০২৭ সালের হজে আরও ২০ হাজার কোটা চেয়েছে বাংলাদেশ

২০২৬ সালের হজ মৌসুমে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা বলে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর কাছ থেকে কেটে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
সৌদি আরবে আটকে থাকা হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয় ফেরত নিয়ে রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ফেরত পাওয়া অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে আগত ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৬ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫১ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় আগত ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ৪ লাখ ১৪ হাজার ২৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে। একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় ও হজ অফিসের প্রচেষ্টা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার ‘নুসুক’ সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের মূল অঙ্গীকার হলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় সরকার হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সেবামুখী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ৯৪ টাকা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারিত রয়েছে। এর বাইরে আরও ২০ হাজার হজযাত্রীর কোটা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
কোটা বাড়ানোর বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘হজযাত্রী বাড়ানোর ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখেছি এবং কথা বলেছি।’ তিনি বলেন, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী তাঁকে চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ সময় ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘সামনে আমাদের হজ চুক্তিতে মন্ত্রী যাবেন। চুক্তি হওয়ার আগেই ইনশাআল্লাহ এটার (কোটা বাড়ানো) একটা সুরাহা হবে।’
হজের প্রস্তুতির বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী জানান, এবার মদিনায় বাড়ি ভাড়া তুলনামূলক কম দামে এবং ভালো মানের করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে এবার প্রথমবারের মতো সর্বনিম্ন প্যাকেজের সব হজযাত্রীর মদিনায় মসজিদে নববীর কাছাকাছি এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে।




