ভার্জিনিয়ার টাপাহানকে দাম বাড়ার চাপ: ক্যাফের বিদ্যুৎ বিল ৫০০ থেকে হাজার ডলার ছাড়াল, একক মায়ের মাসে ১০০ ডলারের হিসাব

ভার্জিনিয়ার নদীতীরের শহর টাপাহানকে অবস্থিত জাভা জ্যাকস ক্যাফের মালিক জিনস ওয়েন্স বলেছেন, তাঁদের কফির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে; ২০২২ সালের পর থেকে তা ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গরুর মাংসের দাম বেড়েছে, সসেজ ও বাইরে নেওয়ার খাবারের কাগজের পণ্যের দামও বেড়েছে।
ওয়েন্সের হিসাব অনুযায়ী, একসময় বাইরে নেওয়ার বাক্সের জন্য তাঁরা ১২ সেন্ট দিতেন; এখন তা প্রায় ৩০ সেন্ট। কাপ, ঢাকনা ও স্ট্র একসঙ্গে আগে প্রায় ৩ সেন্ট পড়ত; এখন তা ২০ সেন্টের বেশি।
ক্যাফেটির বিদ্যুৎ বিলও সম্প্রতি লাফ দিয়েছে। ওয়েন্স বলেন, ‘সাধারণত আমি মাসে ৪৫০, ৫০০ ডলার দিতাম। এখন আমি ১০০০ ডলারের বেশি দিচ্ছি।’
জাভা জ্যাকস ২০০৬ সালে শুরু হয়েছিল, শহরের প্রধান সড়কে একসময় কারও একতলা ছোট বাড়ি ছিল এমন জায়গায়। ওয়েন্স ও তাঁর স্বামী প্রায় আট বছর আগে ব্যবসাটির দায়িত্ব নেন। তিনি বলেন, নিজেদের বস হওয়া এবং অবসরের জন্য কিছুটা ভালো ব্যবস্থা করাই তাঁদের আগ্রহ ছিল। কিন্তু প্রথম বছরগুলোতে মহামারি ও মূল্যস্ফীতিসহ ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক ব্যয়বহুল ধাক্কা এসেছে।
ওয়েন্স বলেছেন, ক্যাফের অনুগত গ্রাহকভিত্তি আছে এবং কিছু খাবারের দাম ১০ ডলারে ধরে রাখাসহ মেনুর দাম সাশ্রয়ী রাখতে তিনি যা পারেন করছেন। এখন তিনি সরবরাহকারীর কাছ থেকে না কিনে ভোরে ওয়ালমার্টে গিয়ে দুধ ও জুস কেনেন। টাটকা ফলের জন্য স্থানীয় মুদি দোকানে যান। তিনজন সরবরাহকারীর মধ্যে দাম যাচাই করে যার দাম সবচেয়ে কম, তার কাছ থেকেই কেনেন।
শুধু তাঁর অভ্যাসই বদলায়নি, গ্রাহকদের অভ্যাসও বদলেছে। তিনি লক্ষ করেছেন, আরও বেশি বয়স্ক গ্রাহক একটি অর্ডার ভাগ করে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ক্যাফেটি কেনার সময় এমন ঘটনা এক-দুদিনে এক-দুটি হতো, এখন দিনে একাধিক বিল ভাগ হয়। গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে কর্মীদের বখশিশও কমে গিয়েছিল; দাম কমে এলে সেই প্রবণতা বদলাতে শুরু করে বলে তিনি জানান।
ওয়েন্সের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন কর্মী খুঁজে পাওয়া ও ধরে রাখা, যার মূলেও রয়েছে সাশ্রয়ের সমস্যা। নদীর ওপারে ওয়ারসতে তাঁর আরেকটি কফির দোকান আছে। কয়েক মাস ধরে দুই জায়গাতেই কর্মীসংকট চলছে। এই গ্রামীণ এলাকায় ভাড়া বেড়েছে, যেখানে মধ্যম আয় বছরে প্রায় ৫০ হাজার ডলার। তিনি কর্মীদের থাকার জায়গা খুঁজে দিতে সাহায্য করেছেন এবং সাময়িকভাবে মোটেলেও রেখেছেন। প্রায় পাঁচজন কর্মীকে গাড়িতে করে কাজে আনা-নেওয়া করা হয় বলে তিনি জানান।
এসবের কারণে ওয়েন্সকে রান্নাঘরে পালা করে কাজ করতে হচ্ছে, সামনের কাজ ও কাগজপত্র সন্ধ্যা ও ছুটির দিনে ঠেলে দিতে হচ্ছে। স্থানীয় অন্য রেস্তোরাঁ মালিকদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বলে তিনি জানান।
টাপাহানক ভার্জিনিয়ার প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের পূর্বাংশে। সেখানে দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান প্রতিনিধি রব উইটম্যান ও ডেমোক্র্যাট শ্যানন টেলরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে; টেলর হেনরিকো কাউন্টির কমনওয়েলথ অ্যাটর্নি। ওয়েন্স মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে চান না; এলাকায় আবাসন ও পরিবহনের অভাব সম্পর্কে যা জেনেছেন, তা তাঁকে নির্দলীয় টাউন কাউন্সিলে প্রার্থী হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যিনিই জিতুন, ছোট ব্যবসাগুলো কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা তিনি বুঝুন, এটাই ওয়েন্স চান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা সংগ্রাম করছি।’
নদীর ওপারে রিচমন্ড কাউন্টিতে কাজ করা জামেকা ক্যাম্পবেল মনে করেন, রাজনীতিকরা আজকের অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন। ক্যাম্পবেল দুই সন্তানকে বড় করছেন এবং মেনোকিন নামের একটি ঐতিহাসিক স্থানে দুটি চাকরি করছেন; তিনি সেখানে অফিস ব্যবস্থাপক এবং অলাভজনক সংস্থা জাস্ট হারভেস্ট ভার্জিনিয়ার কমিউনিটি ও আউটরিচ পরিচালক।
ক্যাম্পবেল বলেছেন, নিজের বাজেটে তিনি ওয়ালগ্রিনসের কুপনে দক্ষ হয়ে উঠেছেন। মেনোকিন থেকে কয়েক মাইল দূরে ক্যালাওয়ের একটি ওয়ালগ্রিনস তাঁর পছন্দের। তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য সবসময় মাসে একবারই এখানে আসা এবং গৃহস্থালি জিনিসের জন্য ১০০ ডলার খরচ করা।’ তিনি অ্যাপ দিয়ে কুপন সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও হিসাব রাখেন এবং ভালো দর পেলে মজুত করেন।
তাঁর হিসাব অনুযায়ী, পছন্দের কাপড় ধোয়ার ডিটারজেন্টের ছোট ২৭.৫ আউন্সের জগের দাম ৪.৯৯ ডলার এবং সাধারণত ‘একটি কিনলে দুটি ফ্রি’ অফার থাকে। সাম্প্রতিক এক সফরে তিনি টয়লেট পেপারের দুটি ১২-রোলের প্যাক, ফেসিয়াল টিস্যু, লাইসল, বাসন ধোয়ার ডিটারজেন্ট, জীবাণুনাশক ওয়াইপস, ডিটারজেন্ট পড, ডিসপোজেবল বাথরুম কাপের দুটি বাক্স, তিনটি লন্ড্রি সেন্ট বুস্টার, টুথপেস্ট, একটি টুথব্রাশ ও মাউথওয়াশ কিনেছেন। তিনি ৬০.০৪ ডলার খরচ করে ২৭.৭১ ডলার বাঁচিয়েছেন, যা তাঁর ভাষায় একটি খাবার বা ‘এক-চতুর্থাংশ ট্যাংক গ্যাসের’ সমান।
ক্যাম্পবেল বলেছেন, তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রার্থীদের দিকে নজর রাখছেন এবং গবেষণা করছেন। ভোটের সিদ্ধান্ত তিনি নির্বাচনের দিনের কাছাকাছি সময়ে নেবেন। নিজের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ধনী নই। আমি গরিবও নই। আমি মাঝামাঝি আছি। আর যেকোনো দিন এটি যেকোনো দিকে যেতে পারে।’



