ওহাইওতে আইসিই অভিযানের ভয়ে নীরব দিন: হাইতিয়ানদের মর্যাদার দাবিতে ৪৫ মাইল পদযাত্রা

মিশেল লুইয়ের পা ও পায়ের পাতা ব্যথা করছে; তিনি ঠিকমতো হাঁটতেই পারছেন না। ভুট্টাখেত আর দূরে ব্যস্ত মহাসড়কের শব্দের মধ্যে হাইতির এই বাসিন্দা ও আরও কয়েক ডজন কর্মী হাইতিয়ান অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে স্প্রিংফিল্ড থেকে ওহাইওর রাজধানী কলম্বাসের স্টেটহাউস পর্যন্ত ৪৫ মাইল পদযাত্রার ২৩ মাইল পেরিয়ে এসেছেন।
কিন্তু এখনকার এই শারীরিক কষ্ট গত গ্রীষ্মে তাকে যে মানসিক যন্ত্রণা ও ভয় সহ্য করতে হয়েছিল, তার তুলনায় কিছুই নয় বলে তিনি জানান। আগস্টে তিনি তার মেয়ে ও ভাইকে নিয়ে স্প্রিংফিল্ডের নিজের বাড়ির বেসমেন্টে পাঁচ দিন লুকিয়ে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) কর্মকর্তারা তাকে ফেরত পাঠাতে দরজায় আসতে পারেন—এই ভয়ে দিনের বেলায় পরিবারটি বিদ্যুৎ ছাড়াই ছিল।
সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে লুই বলেন, তিনি পর্দা বন্ধ করে রেখেছিলেন; তিনি চাননি কেউ জানুক যে বাড়িটিতে মানুষ বাস করে।
কয়েক মাস ধরে আইসিই স্প্রিংফিল্ডের অভিবাসী সম্প্রদায়কে আতঙ্কে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে—সাধারণত শান্ত রাস্তায় যানবাহনের পেছনে দ্রুতগতিতে ধাওয়া আর দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। প্রধান লক্ষ্য শহরটির হাইতিয়ান সম্প্রদায়, যারা আট বছর আগে সংগ্রামরত ৬০ হাজার বাসিন্দার এই শহরে শত শত শূন্য শ্রমিকের চাকরি পূরণ করতে আসতে শুরু করেছিলেন।
জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি হাইতিয়ান নাগরিকের অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা (টিপিএস) শেষ করার অনুমতি দেওয়ার পর তারা আর আইনগতভাবে কাজ করতে পারছিলেন না। এর কয়েক দিনের মধ্যেই কয়েক ডজন আইসিই এজেন্ট স্প্রিংফিল্ডে নেমে আসেন। সেপ্টেম্বরে স্বদেশ নিরাপত্তামন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন জানান, স্প্রিংফিল্ডে আইসিই এজেন্টরা ৩৮০ জনকে আটক করেছেন।
লুই বেড়ে উঠেছেন হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে। তিনি জানান, ২০২১ সালে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে আইনগতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে তিনি স্প্রিংফিল্ডে আসেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে হাইতিতে একটি গ্যাং তার ৩১ বছর বয়সী ভাইকে হত্যা করে। গ্যাংগুলোর কাছ থেকে অনেক হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভাই নিহত হওয়ার তিন মাস পর তিনি দেশ ছাড়েন; বাবা-মায়ের জন্য ছেলেকে হারানো ছিল খুবই কঠিন।
শুধু হাইতিয়ানরাই নন, স্প্রিংফিল্ডে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের হয়রানির শিকার বোধ করছেন অন্য বাসিন্দারাও। আগস্টে আইসিই শহরের রাস্তায় টহল শুরু করলে বাসিন্দা শন মুরম্যান তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তাদের যানবাহন অনুসরণ করতে শুরু করেন।
কিন্তু তা শীঘ্রই তার দিকে অবাঞ্ছিত নজর টেনে আনে। গত মাসে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন অব ওহাইও তার পক্ষে সাতজন আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় মুরম্যান দাবি করেন, এজেন্টরা তাদের একটি যান তার গাড়ির দিকে এমনভাবে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন যেন ধাক্কা দেবেন, তার গাড়ির ছবি তুলেছিলেন এবং কয়েকটি যান দিয়ে তাকে গাড়িতে কোণঠাসা করেছিলেন, যাতে তিনি জীবনের ভয় পেয়েছিলেন। এজেন্টরা তার বাড়ির পাশ দিয়ে গিয়ে ভেতরে থাকা তার স্ত্রীর ছবিও তুলেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
গত মাসে একজন ফেডারেল বিচারক আইসিইকে মুরম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং সাতজন এজেন্টের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেন; এজেন্টদের সবাই ছিলেন অজ্ঞাতনামা। কিন্তু সে সময় স্প্রিংফিল্ডে কর্মরত অনেক আইসিই কর্মকর্তাকে রাজ্যের বাইরে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিচারিক আদেশটি ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যায়। ২ অক্টোবর একজন ফেডারেল বিচারক মুরম্যানের মামলাটি খারিজ করে দেন। মুরম্যান আরও প্রতিশোধের ভয়ে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি।
এসিএলইউ অব ওহাইওর ব্যবস্থাপনা আইনি পরিচালক ও মামলায় মুরম্যানের প্রতিনিধি ডেভিড ক্যারি বলেন, আইসিই কর্মকর্তাদের রাজ্যের বাইরে সরিয়ে বিচারের মুখোমুখি হওয়া এড়ানো হতাশাজনক হলেও অপ্রত্যাশিত নয়। আদালত এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ও বাড়িয়েছিল—তাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি গেছে যে আইসিইর প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘনের অবাধ ছাড়পত্র নেই।
আইসিই জানিয়েছে, তারা ওহাইওতে এসিএলইউর দায়ের করা মামলা সম্পর্কে অবগত এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে উপযুক্ত পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, স্বদেশ নিরাপত্তা বিভাগ আমেরিকানদের নিরাপদ রাখতে সারা দেশে প্রতিদিন আইন প্রয়োগের কার্যক্রম চালাচ্ছে; প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সচিব মুলিনের অধীনে আইন ভাঙলে পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং অবৈধ বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত নন।
সারা দেশে মুরম্যানের মতো আইসিই পর্যবেক্ষকরা সংস্থাটির বিপজ্জনক কার্যক্রম প্রকাশ্যে আনতে অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন শুরু হওয়ার পর থেকে দুই ডজনের বেশি মানুষ আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে আহত হয়েছেন, অনেকেই তাদের সন্তানদের সামনে। তাদের মধ্যে মিনিয়াপোলিস ও টেক্সাসে গুলিতে নিহত তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও রয়েছেন; তাদের দুজন—রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি—মুরম্যানের মতোই আইসিই এজেন্টদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
লুইয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি আঘাতের ছিল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্পের করা সেই মিথ্যা বক্তব্য, যেখানে স্প্রিংফিল্ডে অভিবাসীরা মানুষের পোষা প্রাণী খাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছিল। লুই বলেন, সেটাই তার চোখ খুলে দিয়েছিল; ততদিন তিনি শুধু কাজে যেতেন আর বাড়ি ফিরতেন, সম্প্রদায়ের বিষয়ে ততটা আগ্রহী ছিলেন না, এমনকি গার্হস্থ্য সহিংসতার শিকার আমেরিকানদের সাহায্যও করতেন। তার ভাষায়, তিনি দেশের ও নাগরিকদের সেবা করেছেন; আর যখন তাকে কুকুর-বিড়াল খাওয়া ও অবৈধভাবে আসার কথা বলা হলো, তখন তিনি কেঁপে ওঠেন—তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, এখন সম্প্রদায়ের জন্য জেগে উঠেছেন।
মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের হিসাবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে আইসিই ও শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা (সিবিপি) মিলে ৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠিয়েছে।
লুই জানান, তিন দিনের এই পদযাত্রার উদ্দেশ্য কর্মীদের দাবিগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো: অভিবাসীদের আইসিইর আটক ও গোড়ালিতে মনিটর পরানো বন্ধ করা, এজেন্টদের স্প্রিংফিল্ড ছেড়ে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের জীবনে অবদান রাখা হাইতিয়ানদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ প্রতিষ্ঠা করা।
পদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে, ট্রাম্পের দমন অভিযানের আগে যেখানে কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মরত ছিলেন সেই বড় অ্যামাজন গুদামটি চোখে পড়ার সময় লুই তার পরিচিত এক হাইতিয়ান নারীর কথা বলেন, যার স্বামীকে সম্প্রতি হাইতিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে—যেখানে এক দশকের বেশি সময় ধরে সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। লুই বলেন, তারা এখানে একটি বাড়ি কিনেছিলেন, এখন তারা হাইতিতেই ফিরে যাচ্ছেন; তার মতে, এটি আইসিইর একটি পদ্ধতি—পুরুষটিকে নিয়ে যাও, পরিবারটি নিজে থেকেই অনুসরণ করবে।



