মিরপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে ১১ জন আটক, সহিংসতায় প্রকৃত শ্রমিক জড়িত নয় বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর মিরপুরে ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে মিশে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (১ নভেম্বর) ডিবি মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
একই দিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন-অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশের রফতানি বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র চলছে। সরকার এই ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হাতে মোকাবিলা করবে।’
ডিসি রাকিব খাঁন বলেন, কয়েক দিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। তবে শনিবার থেকে তাঁরা সহিংস হয়ে উঠেছেন। রোববারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, মূলত সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
রাকিব খাঁন আরও বলেন, মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক ব্যক্তিদের পাওয়া গেছে। তারা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতা।
তিনি জানান, মিরপুরের পলাতক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা এই নাশকতার সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের তিনিই ঢাকায় এনেছেন। সেখানে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের শনাক্ত করে আটকের অভিযান চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি অনেক মুখোশধারী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে গিয়ে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করছে। আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নিরীহ গার্মেন্ট শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে, যাতে এখানে একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়, আমাদের রফতানি বাণিজ্যকে ব্যাহত করা যায়, গার্মেন্টসের উৎপাদনকে ব্যাহত করা যায়।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যারা সহিংস কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তাদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।’
এই সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত কোনও শ্রমিক বা সত্যিকারের শ্রমিক সংগঠন জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এসব সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কোনও শ্রমিক ভাই জড়িত না। তারা আলাপ-আলোচনা করবেন। তাদের প্রতিনিধির নাম দেওয়া হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সেই মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই মেসেজটা আমরা সবাইকে দিতে চাই, আমরা শান্তি চাই শৃঙ্খলা চাই, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি চাই। শিল্পের যে জনক বলতে পারেন বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তার এই অবদানকে আমরা সবাই স্বীকার করি এবং আমরা চাই গার্মেন্ট শিল্পের আরও উন্নতি হোক এবং আমাদের রফতানি খাতকে সমৃদ্ধ করুক।’




