বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় এগিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইওতোভা
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইওতোভা। রোববার অনুষ্ঠিত এই রান-অফ ভোটের তিনটি বুথফেরত জরিপের ফল বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বিটিএ প্রকাশ করেছে।
জরিপগুলোর হিসাব অনুযায়ী ইওতোভা পেয়েছেন প্রায় ৫১ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রে গিউরভ পেয়েছেন প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট। গিউরভ পশ্চিমাপন্থী বিরোধী শিবিরের সমর্থিত প্রার্থী; তিনি একজন ব্যাংকার এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী।
বুথফেরত জরিপে ভোটার উপস্থিতি ধরা হয়েছে ২৭ থেকে ২৯ শতাংশের মধ্যে। গত সপ্তাহের প্রথম দফার ভোটে উপস্থিতি ছিল রেকর্ড কম ২৩ শতাংশ; দ্বিতীয় দফায় তা সামান্য বেড়েছে।
সোমবার ব্যালট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার কথা রয়েছে। বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক বা প্রতীকী ক্ষমতার। ফল নিশ্চিত হলে ৬১ বছর বয়সী ইওতোভা হবেন দেশটির প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট।
ইওতোভা চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। তখন তাঁর দীর্ঘদিনের মিত্র প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পদত্যাগ করেন এবং পরে সেই নির্বাচনে জয়ী হন।
ইওতোভা মস্কোর সঙ্গে সংলাপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা পাঠানোর বিরোধী। এই অবস্থানই ছিল নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
এবারের ভোটের ওপর ছায়া ফেলেছে কৃষ্ণসাগর উপকূলে জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা। গত মাসে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার পর এখনো ২১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ায় এসব হামলা ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী রাদেভ বলেছেন, হামলাগুলো রাশিয়ার স্বার্থে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং তিনি রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন। তবে তাঁর সরকার জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে মস্কোকে সরাসরি যুক্ত করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দুই প্রার্থীই হামলার নিন্দা করেছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাপ্তির আহ্বান জানিয়েছেন। টেলিভিশন বিতর্কে গিউরভ রাশিয়াকে স্পষ্টভাবে দায়ী না করায় ইওতোভার সমালোচনা করে বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হলে রাশিয়াকে তার আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।
ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের মধ্যেও ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রাজধানী সোফিয়ার ৬৪ বছর বয়সী শিক্ষক ক্রাসিমিরা কস্তোভা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, দুই প্রার্থীর কাউকেই তাঁর পছন্দ নয়, তবু তিনি ভোট দিয়েছেন।
৬৭ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী পেতার দোইচিনভ জানান, দ্বিতীয় দফা হবে ধরে নিয়ে তিনি প্রথম দফায় ভোট দেননি। কোনো প্রার্থীই তাঁর গণতন্ত্রের ধারণার সঙ্গে মেলে না বলে তিনি তুলনামূলক কম খারাপ প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।



