বিবিসি ইয়াং মিউজিশিয়ান ২০২৬ জিতলেন ১৮ বছর বয়সী বেহালাবাদক সোফিয়া, প্রথম সর্ব-নারী ফাইনাল

যুক্তরাজ্যের বিবিসি ইয়াং মিউজিশিয়ান প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর শিরোপা জিতেছেন ১৮ বছর বয়সী বেহালাবাদক সোফিয়া দেমেত্রিয়াদেস। প্রতিযোগিতার ৪৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের ফাইনালের তিনজনই ছিলেন নারী প্রতিযোগী।
বিচারক জোয়ানা ম্যাকগ্রেগর, বেন গারনন ও এরোলিন ওয়ালেন সোফিয়ার বাজানো চাইকোভস্কির ভায়োলিন কনসার্টোর প্রশংসা করে বলেন, তার পরিবেশনায় ছিল অন্তর্দৃষ্টি, কবিত্ব আর পরিপক্বতা।
লেস্টারশায়ারের সোফিয়া রয়্যাল একাডেমি অব মিউজিকে স্নাতক পড়াশোনার প্রথম বর্ষে রয়েছেন।
হামফ্রে বার্টনের ভাবনায় ১৯৭৮ সালে শুরু হওয়া এই দ্বিবার্ষিক প্রতিযোগিতা থেকে এর আগে শেকু কান্নেহ-মেসন, অ্যালিসন বালসম ও স্টিফেন হাফের মতো শিল্পী উঠে এসেছেন। বেহালাবাদকদের মধ্যে সর্বশেষ জিতেছিলেন নিকোলা বেনেদেত্তি, ২০০৪ সালে।
কয়েক শ আবেদনকারীর মধ্য থেকে ভিডিও আবেদনের ভিত্তিতে ৪০ জনকে বাথ স্পা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি অডিশনের জন্য বাছাই করা হয়; সেখান থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন আটজন। কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় সোফিয়ার ১৮তম জন্মদিনে। ওই পর্বে ছিলেন প্রতিযোগিতার ইতিহাসে শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছানো প্রথম অ্যাকর্ডিয়নবাদক, ১৪ বছর বয়সী সিলভেস্টার মাসচি।
ফাইনালে তিন প্রতিযোগীই ব্রিস্টল বিকনে আলপেশ চৌহানের পরিচালনায় বিবিসি ন্যাশনাল অর্কেস্ট্রা অব ওয়েলসের সঙ্গে কনসার্টো বাজান। ১৮ বছর বয়সী স্যাক্সোফোনবাদক কেজিয়া কল্টন বাজান তাকাশি ইয়োশিমাতসুর ১৯৯৪ সালের ‘সাইবার বার্ড’ স্যাক্সোফোন কনসার্টো, আর ১৭ বছর বয়সী রেকর্ডারবাদক আলমা নুনেজ দেব্রেৎজেনি বাজান গ্রাহাম ফিটকিনের রেকর্ডার কনসার্টো।
ফিটকিনের কনসার্টোটিতে ছয়টি ভিন্ন রেকর্ডার ব্যবহৃত হয় — প্রায় ১.৬ মিটার উঁচু বিশাল কন্ট্রাবাস থেকে ক্ষুদ্রতম সোপ্রানিনো পর্যন্ত। গানটি মূলত দেব্রেৎজেনির শিক্ষক বারবারা ল-র জন্য রচিত হয়েছিল এবং ২০১৭ সালে ২০১৪ সালের ফাইনালিস্ট সোফি ওয়েস্টব্রুক এটির প্রথম পরিবেশনা করেন। এ বছর আরও একটি যোগসূত্র ছিল — কেজিয়া কল্টনের সঙ্গে মঞ্চে যোগ দেন ২০২২ সালের বিজয়ী তালবাদক জর্ডান অ্যাশম্যান।
বিচারকদের মতে, কল্টন বাজান ‘অবিশ্বাস্য উদ্দীপনা আর প্রাণ’ নিয়ে; আর দেব্রেৎজেনির পরিবেশনায় ছিল ‘বিদ্যুৎ, প্রাণবন্ততা আর সুন্দর তীব্রতা’ — তিনি শ্রোতাদের এক সংগীতযাত্রায় নিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন ওয়ালেন।
দেব্রেৎজেনি বলেন, প্রতিযোগিতার আগে তিনি সংগীতশিল্পী হওয়ার পরিকল্পনা করেননি; মনোবিজ্ঞান পড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা তাকে সংগীতকেই পেশা হিসেবে নিতে অনুপ্রাণিত করেছে — তার ভাষায়, এটি আক্ষরিক অর্থেই জীবন বদলে দেওয়ার মতো।
সোফিয়া সম্পর্কে ম্যাকগ্রেগর বলেন, তিনি এক অসাধারণ সংগীতশিল্পী; অসাধ্য কৌশল আয়ত্ত করলেও তার পরিবেশনা দেখে মনে হয় তিনি তা উপভোগ করছেন। সোফিয়ার রঙ, সংগীতশৈলী ও কাঠামো সম্পর্কে সহজাত বোধ অনায়াস কৌশল আর আনন্দের সঙ্গে মিলে তাকে আলাদা করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজয়ী পাচ্ছেন ট্রফি, সংগীত পড়াশোনার জন্য ৩ হাজার পাউন্ড নগদ পুরস্কার এবং বিবিসির একটি দলের সঙ্গে রেডিও ৩-তে রেকর্ডিং ও সম্প্রচারের সুযোগ। তিন ফাইনালিস্টই ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিচালনায় ইয়াং ক্লাসিক্যাল আর্টিস্টস ট্রাস্টের সঙ্গে কাজ করবেন।
সোফিয়া বলেন, বিবিসি ইয়াং মিউজিশিয়ানের অংশ হতে পেরে তিনি সম্মানিত ও উচ্ছ্বসিত। ১৮তম জন্মদিনে কোয়ার্টার ফাইনালে বাজানোর অভিজ্ঞতাকেই তিনি সেরা ভেবেছিলেন; বিজয়ীর মুকুট পাওয়া তার একেবারে স্বপ্নের মতো। ফাইনাল ও আগের ধাপগুলো বিবিসি আইপ্লেয়ারে দেখা যাবে।



