…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › শিক্ষা › খবর
শিক্ষা

এইচএসসিতে পিছিয়ে রাজশাহীর গ্রামের সরকারি কলেজ: ৯ উপজেলা কলেজের গড় পাস ৪১.১০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এইচএসসিতে পিছিয়ে রাজশাহীর গ্রামের সরকারি কলেজ: ৯ উপজেলা কলেজের গড় পাস ৪১.১০ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর ৯টি উপজেলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারেননি। ছয়টি কলেজের পাসের হার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হারের চেয়ে কম। শনিবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বোর্ডের গড় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও জেলার ৯ উপজেলার সরকারি কলেজের গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ।

সবচেয়ে কম পাসের হার গোদাগাড়ী সরকারি কলেজে—২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই কলেজ থেকে ২০৫ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৪২ জন, আর জিপিএ-৫ পাননি কোনো শিক্ষার্থী।

এরপর দুর্গাপুরের দাউকান্দি সরকারি কলেজে পাসের হার ২০ দশমিক ৫১ শতাংশ। কলেজটি থেকে ১৫৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ৩২ জন; এই কলেজেরও কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। এই কলেজে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৪৩৫ জন, পাস করেছেন ১৫৪ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ জন। বাগমারার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।

পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি কলেজে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা বোর্ডের গড়ের কাছাকাছি হলেও নিচে। তানোরের সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজে পাসের হার ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ—কলেজটি থেকে ৪১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১০১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ জন।

তানোরের কলেজটির অধ্যক্ষ ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এটা কি খুশি হওয়ার মতো রেজাল্ট হয়েছে? আমরা খুশি হতে পারিনি। আগামীতে যাতে ভালো হয়, আমরা সেই চেষ্টা করব।’

তুলনামূলক ভালো ফল করেছে তিনটি কলেজ। চারঘাটের সরদহ সরকারি কলেজে পাসের হার ৬৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা বোর্ডের গড় পাসের হারের চেয়ে বেশি। এই কলেজ থেকে ৩৮৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৬১ জন পাস করেছেন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ জন।

মোহনপুর সরকারি কলেজেও ফল তুলনামূলক ভালো—পাসের হার ৬১ দশমিক ৬০ শতাংশ। কলেজের ৫০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩০৮ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন। পুঠিয়ার বানেশ্বর সরকারি কলেজে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ; ৪৫১ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ২৫৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ জন।

শহরের কয়েকটি নামকরা সরকারি কলেজ ভালো ফল করলেও গ্রামের কলেজগুলোর অবস্থা করুণ। একই অবস্থা পুরোনো কিংবা ‘ভালো’ হিসেবে জাতীয়করণ করা উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোরও। ২০১৮ সালে এই ৯টি কলেজ জাতীয়করণ করা হয়।

ফল খারাপ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত হওয়াকে দুষছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। তাঁরা জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা যায় না। একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা কিছুদিন ক্লাস করে; দ্বিতীয় বর্ষে উঠেই তারা কোচিং-প্রাইভেটের দিকে বেশি মনোযোগী হয়, ক্লাস করতে চায় না। অভিভাবকদের জানিয়েও লাভ হয় না।

এর সঙ্গে রয়েছে শিক্ষকসংকট। ২০১৮ সালে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণের সময় এসব কলেজে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। এই আট বছরে অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন, কিন্তু নতুন শিক্ষকের পদায়ন হয়নি। ফলে কলেজগুলোতে শিক্ষকসংকটের কারণে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শিক্ষা বিভাগের আরও খবর

শিক্ষা

রাজশাহী বোর্ডে এইচএসসিতে পাস ৪৫.৬ শতাংশ, জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে রাজশাহী জেলা

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বোর্ডের আট জেলার ১ লাখ …

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট কলেজে টানা তিন বছর এইচএসসিতে পাস করেনি কেউ
শিক্ষা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট কলেজে টানা তিন বছর এইচএসসিতে পাস করেনি কেউ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম ধস নেমেছে। টানা তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেননি।…

ঢাবির জগন্নাথ হলের ক্যান্টিন থেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা অর্ক সাহা আটক, পুলিশে সোপর্দ
শিক্ষা

ঢাবির জগন্নাথ হলের ক্যান্টিন থেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা অর্ক সাহা আটক, পুলিশে সোপর্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক অর্ক সাহাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে…

এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়ের ধাক্কা উচ্চশিক্ষায়: স্নাতকে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ আসনই ফাঁকা থাকার আশঙ্কা
শিক্ষা

এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়ের ধাক্কা উচ্চশিক্ষায়: স্নাতকে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ আসনই ফাঁকা থাকার আশঙ্কা

চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের কারণে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ আসনই ফাঁকা থাকবে। এতে জাত…