‘জামায়াতের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নেই, বিএনপি-আওয়ামী লীগ মন্ত্রিত্বের অফার দিয়েছিল’: চরমোনাই পীর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করার সম্ভাবনা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—উভয় দলই সংসদীয় আসন ও মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দিয়ে তাঁদের দলকে জোটে টানতে চেয়েছিল, কিন্তু তাঁরা সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি।
রবিবার (১ নভেম্বর) বিকালে বরিশাল নগরীর টাউন হল চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত দাওয়াতি মাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, ‘হয়তো ২০-৩০টি এমপি কিংবা এক-দুটি মন্ত্রিত্বের প্রয়োজন হলে এবং আমাদের লোভ থাকলে জামায়াতের সঙ্গে থেকে কেন এমপি হতে হবে? বিএনপি তো আমাদের সেই প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিল। আওয়ামী লীগও সেই প্রস্তাব দিয়েছিল; আমরা লোভ করিনি। কারণ, আমরা ক্ষমতার লোভে নয়, দেশ, ইসলাম ও মানুষের কল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্ভেজাল সত্যের পথে থেকে দেশটাকে বাঁচাতে চাই, ইসলামকে বাঁচাতে চাই, মানুষের কল্যাণকে রক্ষা করতে চাই। এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা রাজনীতি করি।’
জাতীয় নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে রেজাউল করীম বলেন, ‘যখন আমরা এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিলাম, আলহামদুলিল্লাহ, তখন আমিও বুঝতে পারিনি যে কঠিন মুহূর্তেও ইসলামী আন্দোলনের বাক্সে সাড়ে ২২ লাখের বেশি ভোট পড়বে। এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না এলেও আমরা হতাশ হইনি কিংবা হাল ছাড়িনি। কারণ, পরাজয় বা ভরাডুবি স্বাভাবিক বিষয় হলেও আল্লাহর রহমতে আমরা রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি।’
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন-২০২৬-এর পর ইসলামের নামে দল হিসেবে তৃতীয় অবস্থান দাবি করার মতো অবস্থানে আর কেউ নেই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখন বুক ফুলিয়ে বলতে পারে, নির্ভেজাল ইসলামের আদর্শের রাজনীতি করলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিকল্প নেই।’
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের ইশতেহারে ইসলাম ও শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। জাতীয় টেলিভিশনে ইশতেহার প্রকাশের সময় তাঁরা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছেন—ক্ষমতায় গেলে ইসলাম ও শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবেন।
অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর শাখার নেতাকর্মী ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




