স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৯ জনের মধ্যে চার মার্কিনসহ বিদেশিরা, এখনো অশনাক্ত তিনজন

স্পেনে গত সপ্তাহের উচ্চগতির ট্রেন সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ জনে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৫৪ জন স্পেনের নাগরিক।
রোববার গভীর রাতে শনাক্তকরণের কাজে গঠিত আইনি সংস্থা সর্বশেষ ১০ জন বিদেশি নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই সংস্থা বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়।
নতুন করে নিশ্চিত হওয়া বিদেশিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চারজন নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া কানাডা, জাপান, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, তিউনিসিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এর আগে ফ্রান্সের একজন ও পর্তুগালের একজন নাগরিকের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত তিনজন ছাড়া বাকি সব নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ হিসেবে এখনো তিনটি প্রতিবেদন সক্রিয় রয়েছে। সেগুলো অস্ট্রেলিয়ার দুজন ও জাপানের একজন নাগরিকের বিষয়ে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যোগাযোগ করা পরিবারগুলো সশরীরে শনাক্তকরণের জন্য স্পেনে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তাদের পৌঁছানোর অপেক্ষা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে মধ্যাঞ্চলের উরদা গ্রামের বাইরে। রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে ওই এলাকায় রাষ্ট্রীয় অপারেটর রেনফের একটি ট্রেন স্প্যানিশ কোম্পানি ইরিওর দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা বিকল হওয়ায় ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথে সব ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র রেনফের ট্রেনটিকে যাত্রা পুনরায় শুরুর অনুমতি দেয়, তখন অন্য ট্রেনটি তখনো ওই পথেই ছিল।
এটি চলতি বছরে স্পেনে দ্বিতীয় উচ্চগতির ট্রেন সংঘর্ষ। জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চল আন্দালুসিয়ায় এক দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ফলে দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ২৯ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের এক মাস আগে। ওই নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক নেতা পেদ্রো সানচেজ প্রতিকূল জনমত জরিপ কাটিয়ে টানা আট বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বের পর আবার জয় চাইবেন।



