মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে ট্রাম্প ন্যাটোর ওপর চড়াও হতে পারেন, শঙ্কায় ইউরোপীয় মিত্ররা

মঙ্গলবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। পাঁচজন ন্যাটো কূটনীতিকের আশঙ্কা, রিপাবলিকানরা হারলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক জোটের ওপর তার আক্রমণ নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিতে পারেন। সংবেদনশীল বিষয়ে খোলামেলা কথা বলতে সব কূটনীতিকই নাম প্রকাশ না করার শর্তে মত দিয়েছেন।
কূটনীতিকদের যুক্তি, অভ্যন্তরীণ নীতিতে কংগ্রেসের কাছে বাধা পেলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতিতে নিজের ছাপ রেখে যেতে চাইতে পারেন, কারণ সে ক্ষেত্রে তার হাত তুলনামূলক মুক্ত। তিনজন কূটনীতিক বলেছেন, এর অর্থ হতে পারে ইউরোপ থেকে আরও হাজার হাজার মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া।
একজন জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, ক্ষমতার শেষ পর্যায়ে থাকা প্রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে সাধারণত হতাশা ঝাড়া আর পররাষ্ট্রনীতিতে দুঃসাহসিকতার মিশেল দেখা যায়। তার ভাষায়, ন্যাটোকে আক্রমণ করা ট্রাম্পের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির একটি ধারাবাহিক অংশ বলেই মনে হয়।
তবে হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সচিব অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটোর জন্য অন্য যে কারও চেয়ে বেশি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, মিত্রদের ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ে রাজি করানো, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ করার উদ্যোগের কথা।
ওয়েলস আরও বলেছেন, ট্রাম্প দৃঢ় অবস্থানে আছেন যে ইরান যুদ্ধের প্রশ্নে ন্যাটো মিত্রদের যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকা উচিত ছিল। তার ভাষায়, প্রেসিডেন্ট পশ্চিমের ধারাবাহিক পতন মেনে নেবেন না এবং দেশে-বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ আপসহীনভাবে এগিয়ে নেবেন।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে জিততে পারে এবং সিনেটও উল্টে দিতে পারে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার হার রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে।
এই শঙ্কার পেছনে রয়েছে ক্রমবর্ধমান আটলান্টিক-পারের টানাপোড়েন। ইউক্রেনের জন্য স্টারলিংক স্যাটেলাইট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে নতুন ঘনিষ্ঠতা দেখা গেছে। এদিকে রাশিয়া ইউরোপজুড়ে নাশকতা ও তথাকথিত হাইব্রিড যুদ্ধের তৎপরতা বাড়িয়েছে।
শঙ্কার কেন্দ্রে রয়েছে ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়ে আসন্ন একটি পর্যালোচনা, যার ফল ডিসেম্বরের মধ্যে আসার কথা। তিনজন কূটনীতিক বলেছেন, অভ্যন্তরীণ আইন প্রণয়নে বাধা পেলে ট্রাম্প তার মাগা সমর্থকদের খুশি করতে সেই প্রত্যাহারের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারেন।
ন্যাটোর সাবেক কর্মকর্তা ও রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশিষ্ট ফেলো ওয়ানা লুঙ্গেস্কু বলেছেন, ট্রাম্প মহাদেশে মার্কিন উপস্থিতি অব্যাহত রাখাকে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শান্তিচুক্তি মেনে নেওয়ার শর্ত হিসেবেও জুড়ে দিতে পারেন। তার ভাষায়, এসব বিষয় পুতিনের সঙ্গে অনেক বড় একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি আছে, যা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।
কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্প জোটের যৌথ তহবিলে মার্কিন অবদান কমানো, ইউক্রেনের জন্য ন্যাটো-সমর্থিত পার্ল অস্ত্র-ক্রয় কর্মসূচি সীমিত করা এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পথেও যেতে পারেন।
রিপাবলিকানদের বড় পরাজয় পেন্টাগনেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সেখানে চলমান পরিকল্পনাগুলোতে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে গভীরভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের কাছে, কারণ তিনি বাজেট ও অভিযান সম্পর্কে আইনপ্রণেতাদের নিয়মিত ব্রিফিং দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।



