কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থেকে ঢাবির আইনে, ১৮তম বিজেএসে চতুর্থ হলেন মোহাম্মদ হানিফ মিয়া

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে মেধাতালিকায় চতুর্থ হয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী।
হানিফের জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায়। করিমগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি এসএসসি শেষ করেন।
এরপর গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ৩.৬২ সিজিপিএ নিয়ে এলএলবি শেষ করে বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলএমে পড়ছেন।
তিনি জানান, আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বিজেএস দেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। প্রথমে ১৯তম বিজেএসে বসার পরিকল্পনা থাকলেও সেশনের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা তুলনামূলক আগে শেষ হওয়া এবং ১৮তমের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পাওয়ায় তিনি ১৮তম পরীক্ষাতেই বসার সিদ্ধান্ত নেন।
১৮তম বিজেএস ছিল তার প্রথম বিজেএস পরীক্ষা। প্রস্তুতির শুরুতে তিনি জ্যেষ্ঠ ও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন।
প্রস্তুতিতে তাকে সাহায্য করেছেন বিভাগের মাহারাজ হাসান তামিম ও তানভীর হাসান। মাহি উদ্দিন তাকে রেকর্ড করা বিজেএস-সংক্রান্ত ক্লাস করার সুযোগ দেন, আর নিশাত ও তালহা প্রয়োজনে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
নিজের পড়ার ধরন সম্পর্কে হানিফ বলেন, তিনি বিষয় ও সিলেবাস লক্ষ্য করে পড়তেন। কোনো দিন ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়েছেন, আবার কোনো দিন ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়ার পর থেমেছেন; মূল লক্ষ্য ছিল সিলেবাস শেষ করা।
প্রিলিমিনারি নিয়ে তার পরামর্শ, সিলেবাস ধরে পড়তে হবে, প্রতিটি আইনের বেয়ার অ্যাক্ট ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে এবং নিজের দুর্বলতা ও শক্তির জায়গা চিহ্নিত করে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে।
লিখিত পরীক্ষা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি শুধু নির্দিষ্ট সময়ের প্রস্তুতিতে হয় না; মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের সাধারণ জ্ঞান এবং এলএলবি পর্যায়ের পড়াশোনার ওপর তা নির্ভর করে। টানা ১০ দিন পরীক্ষা দিতে হয় বলে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাও জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
ভাইভাকে তিনি মূলত মানসিক প্রস্তুতির বিষয় বলে বর্ণনা করেন। নতুনদের প্রতি তার পরামর্শ, বিজেএসের সিলেবাস মাথায় রেখে একাডেমিক পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হবে, কারণ একাডেমিক ফলের প্রভাব প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভাতেও থাকে।




