ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া মিশিগানের মুসলিমদের একাংশের অভিযোগ: সমর্থনের পরও ইসলামবিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন তাঁরা
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী করতে ভূমিকা রাখা মিশিগানের মুসলিম ভোটারদের একটি অংশ এখন নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বিগ্ন। মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আক্রমণ, ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও সামাজিক হয়রানির ঘটনায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরের মুসলিম আমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলে তাদের উদ্বেগ ও অভিজ্ঞতার চিত্র তুলে ধরেছেন আল জাজিরার সাংবাদিক মিকাইল মালিক। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় ট্রাম্পকে সমর্থন করা মুসলিম ভোটারদের একটি অংশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।
তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ার পরও মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়, দেশপ্রেম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
ডিয়ারবর্নের মুসলিম বাসিন্দাদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে তাদের পরিচয় ও নিরাপত্তা। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে মুসলিম পরিচয়কেই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের বক্তব্য ও প্রচারণা সাধারণ মুসলিম পরিবার, শিশু ও তরুণদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে স্থানীয় মুসলিম অধিকারকর্মী সুহাইলা আমেনের বক্তব্যও উঠে এসেছে। তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, প্রকাশ্য হয়রানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সুহাইলা আমেনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মুসলিম আমেরিকানদের যে বৈরী পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেটির কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে।
ডিয়ারবর্নের মেয়র আবদুল্লাহ হামুদও শহরের মুসলিম বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফোনকলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শহরের বাসিন্দাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মুসলিম পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার প্রভাব পরিবার ও শিশুদের ওপরও পড়ছে। কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালাইব জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় প্রচারিত বর্ণবাদী বিজ্ঞাপন তার সন্তানদের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এ কারণে সন্তানদের এসব বিজ্ঞাপন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হয়েছে তাকে।
আবদুল এল সাইয়েদের সিনেট নির্বাচনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটিও নতুন করে সামনে এসেছে। তার সমর্থকদের অভিযোগ, মুসলিম পরিচয়ের কারণে তাকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও জাতীয় আনুগত্য নিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালের নির্বাচনে মিশিগানের মুসলিম ভোটারদের অবস্থান। গাজায় ইসরায়েলি হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের নীতির প্রতিবাদে ডিয়ারবর্নসহ মিশিগানের আরব ও মুসলিম ভোটারদের একটি অংশ ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন থেকে সরে গিয়ে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন।
তাদের প্রত্যাশা ছিল, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনবে। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় মুসলিম ভোটারদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

