যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে দুই দিনেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মেনে নিলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে ইরান। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অবস্থান জানায়। গত সেপ্টেম্বরে কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে প্রথম এই ধারণাটি উপস্থাপনের সময় ইরান সাত দিনের সময়সীমার প্রস্তাব করেছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, "দুই দিনে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনাই ইরানের সদিচ্ছার আরেকটি প্রমাণ।" তিনি আরও বলেন, "আমরা বলেছি, ইরানের দাবি পূরণ হলে স্বল্প সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং আলোচনা প্রক্রিয়া আবার শুরু করা সম্ভব হবে।"
বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান চলছে এবং "সবকিছুই নির্ভর করছে" যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ ইরানের দাবি মেনে নেয় কি না তার ওপর। "কেবল তখনই আমরা পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারব," বলেন তিনি।
তেহরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের অবসান।
রবিবার প্রকাশিত আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আরও কিছু শর্ত তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটনকে ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্মত হরমুজ প্রণালির নতুন একটি ট্রানজিট রুট মেনে নিতে হবে, অঞ্চলে মার্কিন সেনার সংখ্যা কমাতে হবে এবং আগস্ট থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিতে হবে। আগস্টের পর থেকে ওয়াশিংটন নতুন করে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে, যেগুলোকে তারা ইরানের "অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ" হিসেবে বর্ণনা করেছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান দাবি করে আসছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া পারাপারের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব দুই পক্ষই সামরিক হুমকি জোরদার করেছে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্য ইরানের পিক্যাক্স পর্বতসহ আরও এক-দুটি লক্ষ্যবস্তুর "ব্যবস্থা" তাঁকে এখনও নিতে হবে। ওয়াশিংটনের সন্দেহ, ওই স্থানে পারমাণবিক অবকাঠামো রয়েছে; তেহরান তা অস্বীকার করে।
সোমবারের ব্রিফিংয়ে বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন, যেকোনো সামরিক হামলা, যে মাধ্যমেই হোক, তার জবাব আমরা শক্তিশালী, তাৎক্ষণিক ও সর্বাত্মকভাবে দেব।"
কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সোমবার দোহা সফরে যান।



