কারাক হামলার পর সংসদে জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ: হামলাকারীরা আমাদের কেউ নয়, সন্ত্রাসের মোকাবিলা করা হবে
জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, গত মাসে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কারাকের একটি গির্জায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তাঁর দেশ কেঁপে উঠবে না। সোমবার রাজধানী আম্মানে সংসদের নতুন অধিবেশন উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।
কারাকে ওই হামলায় নয়জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছিলেন। অধিবেশনে নিহতদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন এবং বাদশাহ আইনপ্রণেতাদের তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান জানান।
হামলাকারীদের সম্পর্কে বাদশাহ বলেন, ‘তারা আমাদের কেউ নয়। আজ হোক বা আগামীকাল, তাদের জন্য আমাদের মধ্যে কোনো জায়গা নেই।’ তিনি বলেন, সন্ত্রাসের বিশ্বাসঘাতক হাত দেশের স্থিতিস্থাপকতা ও জনগণের সংকল্প পরীক্ষা করতে চেয়েছিল।
আম্মান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক আহমেদ জাররার জানান, বাদশাহ স্পষ্ট করেছেন যে জর্ডান প্রথমে জাতীয় ঐক্য ও জনসচেতনতার ওপর নির্ভর করে ‘সন্ত্রাস ও চরমপন্থা’ মোকাবিলা করবে। এর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী ‘লোহার মুষ্টি’ দিয়ে আঘাত হানবে বলেও তিনি জানান।
আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়েও বক্তব্য রাখেন বাদশাহ আবদুল্লাহ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদ মধ্যপ্রাচ্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তাঁর ভাষায়, ‘ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।’
গাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে মানবিক বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে এবং পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ধারাবাহিক হামলা চলছে।
জর্ডানের দুর্লভ পানি সম্পদ রক্ষার অঙ্গীকারও করেন বাদশাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো পক্ষের কাছে জর্ডানিদের তৃষ্ণাকে জিম্মি হতে দেব না।’ প্রতিবেদক জাররার মতে, এই বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রকল্প দেশটির পানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে—এমন উদ্বেগ প্রতিফলিত হয়েছে।
জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ১৯৯৪ সালে দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি সই করেছে। দেশটির লাখ লাখ নাগরিক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত।
আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বাদশাহ বলেন, জাতিই কর্তৃত্বের উৎস এবং জাতীয় স্বার্থ লক্ষ্য হলে সংসদে মতভেদ শক্তি। তিনি বলেন, ‘জর্ডানের স্বার্থই লক্ষ্য হলে আপনাদের মতভেদ শক্তি।’ সরকারকে জীবনযাত্রার অবস্থার উন্নতি করার আহ্বানও জানান তিনি।
কর্মকর্তাদের পদ অপব্যবহারের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন বাদশাহ। তিনি বলেন, ‘আইন কোনো নাম, কোনো পদ এবং কোনো প্রভাব চেনে না।’



